প্রিয়া সাহার জঘন্য মিথ্যাচারে উত্তপ্ত দেশ

5

সবুজ সিলেট ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার জগন্য মিথ্যা অভিযোগে সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তার এই অভিযোগ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার ষড়যন্ত্র বলে সবাই ধারণা করছেন। বাংলাদেশ সরকারও প্রিয়া সাহার মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও প্রিয়া সাহার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য জানিয়ে ১৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তার এ অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গতকাল শনিবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই বাংলাদেশ সরকারের একটি ভিডিওর বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহা, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি এবং সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এরই মধ্যে উধাও হয়ে গেছে হয়েছে। এখনও এক কোটি ৮০ লাখ আছে। যার মধ্যে ১৭ লাখ শিশু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করে। আমাদেরকে সাহায্য করুন। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, জমি হারিয়েছি। ইতোমধ্যেই আমার বাড়ি-ঘর দখল করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সরকার থেকে এর কোনো বিচার পাই নাই। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। আমরা বাংলাদেশ ছাড়তে চাই না। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।’
প্রিয়া সাহা ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতা অগ্রগতির দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার অংশগ্রহণ করেন।

॥ অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : সরকার
॥ এ বক্তব্য শুধু নিন্দনীয় : সেতুমন্ত্রী
॥ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
॥ কেন এমন করলেন, খতিয়ে দেখা হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
॥ অভিযোগ সঠিক নয় : মার্কিন রাষ্ট্রদূত
॥ একমত নয় হিন্দু সম্প্রদায়

বাংলাদেশ সরকার প্রিয়া সাহা রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে যেসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ এবং মন্তব্যকে কঠিন ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে। মনে হচ্ছে প্রিয়া সাহার মিথ্যা ও কল্পিত গল্পের পিছনে একটি অস্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল যা বাংলাদেশকে ক্ষতি করার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি নজির, যেখানে সকল ধর্মের লোকেরা যুগ যুগ ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। শুধু তাই নয় জোর করে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গাদের) অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে মানবিক মনোভাব ও উদারতা দেখিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার আশা করে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাবেন যারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্য রাখতে অবদান রাখবেন।
সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি অসত্য। কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বক্তব্য শুধু নিন্দনীয় নয়, তা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আরও উৎসাহিত করবে। তার বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রক্রিয়া চলছে।’
গতকাল শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমন্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদেরের দাবি, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে দেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেউ একমত না। আমি ব্যক্তিগতভাবে রানা দাশ গুপ্তের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। এমনকি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলারও এ ধরনের বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বচানে যারা বিদ্রোহ করেছেন, বিদ্রোহে মদত দিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আজকের বৈঠকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০০ অভিযোগ পেয়েছি। সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ২৭ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২৮ জুলাই থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে।’
তিনি আরও বলেন, শোকের মাস আগস্ট পালনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করা হয়। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে তিনি বন্যাদুর্গত এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আহমদ হোসেন, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : সংখ্যালঘুদের নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে করা অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে গতকাল শনিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভদ্রমহিলার নাম হলো প্রিয়া সাহা। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে যেভাবে বলেছেন সারা বাংলাদেশ আজ বিস্ময় প্রকাশ করেছে। এ ধরনের ঘটনা আমি তো বটেই…আমি আজকে সাড়ে পাঁচ বছর হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ধরনের কোনো ঘটনা আমরা কিন্তু জানি না।’
তিনি বলেন, ‘কোন জায়গাটিতে এ ঘটনা ঘটেছে, কে কে ভিকটিম হয়েছে এ সম্বন্ধে আমাদের কোনো আইডিয়া নেই। কেন তিনি এ ধরনের অসত্য বক্তব্য দিলেন এটা আমাদের জানা নেই। তিনি আসলে নিশ্চয়ই আমরা জিজ্ঞাসা করব-কোথায় ঘটনাটি ঘটেছে, কার বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আমরা সঠিক তদন্ত করি নাই কিংবা করেছি। সেটা আমরা অবশ্যই দেখব।’
‘আমার মনে হয় এ ধরনের অসত্য খবর দেয়ার পেছনে নিশ্চয়ই একটা কারণ থাকতে পারে। তার একটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেই উদ্দেশ্যটা কী সেটাও দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করব- কখন কোথায় কীভাবে হলো এটা? নিশ্চয়ই তিনি একটা উত্তর দেবেন, সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব,’ বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তিনি (প্রিয়া দাস) বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের স্টেটমেন্টটা নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, আমি সেটা দেখেছি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের স্টেটমেন্টও আমি দেখেছি। আমি নিজে যেটা জানি সেটা আপনাদের সামনে বললাম।’
‘গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগে বাংলাদেশে হিন্দুদের হার ছিল এইট প্লাস (৮ শতাংশের বেশি)। ২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী সেটা টেন প্লাস হয়েছে। এর মানে হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন বিনির্মাণে আমরা সফল হয়েছি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা আসছে, সে জন্য তাদের সংখ্যা এখন বেড়েছে,’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এইট প্লাস থেকে টেন প্লাস হয়েছে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে, জনগণ জানবে না। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এর পেছনে হয়তো তার ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে সেই ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যটা আমাদের জানতে হবে।’
রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কিনা-জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন বাইরে। তিনি আসুক। এখন আমরা যেটা করব, সে (প্রিয়া দাস) আসলে তাকে আমরা জিজ্ঞাসা করব কোন জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে। তার ঘটনা অনুযায়ী আমরা পরীক্ষা করব, এরপর যদি তার ঘটনা সত্যি না হয় আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নেয়ার আমরা সেটা নেব। আসুক সে ফিরে আসুক।’
‘আমরা মনে করি তিনি ফিরে আসবেন। আমাদের প্রত্যাশা- এসে তিনি যেটা বলেছেন সেটা প্রমাণ করবেন। আমি সেটাই বিশ্বাস করি’ বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’
প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিন্দা : গত শুক্রবার প্রিয়া সাহার দেশবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে মন্ত্রী প্রিয়া সাহার উদ্ভট অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। তার অভিযোগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী : বাংলাদেশে প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনও পরিস্থিতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহা তার ব্যক্তিস্বার্থেই অভিযোগ করেছেন। এর পেছনে নিশ্চয়ই তার বা কোনও গোষ্ঠীর স্বার্থ আছে।’ গতকাল শনিবার দুপুরে দিনাজপুরে ফলদ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ একটা মডেল। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একসঙ্গে বসবাসের এমন শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি পৃথিবীর কোথাও নেই।’
এ ধরনের অভিযোগে এদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে আশঙ্কা করে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোপূর্বেও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া আমেরিকান কংগ্রেসের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চিঠি লিখেছিলেন। সেটি একটি দেশবিরোধী কর্মকান্ড। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় যে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, জিয়া-এরশাদ-খালেদারা সেই চেতনা ধ্বংস করতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘এই ধরনের দুই-একজন মানুষের অভিযোগ দিয়ে বাংলাদেশের মূল চেতনাকে কখনো ধ্বংস করা যাবে না। এতে আমরা বিচলিত নই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে।’
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে গাছের চারা বিতরণসহ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
অভিযোগ সঠিক নয় : মার্কিন রাষ্ট্রদূত : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সম্প্রতি এক বাংলাদেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক বলে মনে করেন না ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।
গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মিলার এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন।
ওই নারীর এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে মনে করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ মন্দিরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে-অপরকে শ্রদ্ধা করে। আমার প্রথম আট মাসের দায়িত্ব পালনকালে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই ঘুরেছি। মসজিদ, মন্দির ও চার্চে গিয়ে ইমাম-পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন আমি এসেছি একটি বৌদ্ধ মন্দিরে, আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে, এখানকার ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের লোকজন একে-অপরকে শ্রদ্ধা করে। তাই আমি মনে করি, তার অভিযোগ সঠিক নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। যদিও কোনো দেশই সংখ্যালঘুদের অধিকার দিতে সফলতা পায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলের প্রধান ইস্যুগুলো কী, তা যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই জানে।’
একমত নয় হিন্দু সম্প্রদায় : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের বিষয়ে যে অভিযোগ করেছেন তার এ বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় একমত নয় বলে জানিয়েছে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ।
গতকাল শনিবার সংঘের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র সাহা ও সদস্য সচিব সুজন দে স্বাক্ষরিক এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে প্রিয়া সাহা এ ধরনের অদ্ভুত ও অসত্য বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর হারিয়েছে। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’
প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
নিজ এলাকার হিন্দু-মুসলমানদের হয়রানি করেন প্রিয়া : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পেছনে প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার নিজ বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।
তাদের অভিযোগ, এলাকার মুসলমান-হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে নষ্ট করার জন্যই তিনি ট্রাম্পের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে হয়রানি করে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে যে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল সেটি নিয়েও রহস্য রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককেও আসামি করে তিনি হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। তারা মনে করেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে রাতের বেলায় পরিত্যক্ত ঘরটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম নাজিরপুরের নিজ বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের বলেন, প্রিয়া সাহা আমার নির্বাচনি এলাকার মেয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে নিজ দেশ, নিজের এলাকা সম্পর্কে চরম মিথ্যাচার করেছেন। এটা চরম অন্যায় ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ ধর্মীয় বিবেচনায় নির্যাতনের শিকার হন না। আর পিরোজপুরের নাজিরপুরসহ এ জেলার মুসলমান, হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছেন। যা একটি অনন্য দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।
শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, নাজিরপুর বা পিরোজপুর জেলার কোনো হিন্দু বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের লোক গুম বা নিখোঁজ হয়নি। প্রিয়া সাহার বক্তব্য অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নষ্টের উসকানিমূলক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এদিকে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার বলেন, প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে হয়রানি করে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে যে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল সেটি নিয়েও রহস্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদেশে গিয়ে এমন উসকানিমূলক কথা বলেছেন। এতে নাজিরপুরের ভামমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। নাজিরপুরে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই। এখানে হিন্দু-মুসলমান সহাবস্থানে বসবাস করছে।
পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল মন্ডল জানান, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এ ধরণের একটি উদ্ভট মিথ্যাচার করবেন ভাবতেও পারিনি। তিনি কেন এবং কি উদ্দেশ্যে এভাবে মিথ্যাচার করেছেন তাও আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। পিরোজপুরে হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের লোকজন ভালো রয়েছে। এখানে কোনো হিন্দু বা সংখ্যালঘু গুমের ঘটনাও নেই।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী বলেন, প্রিয়া সাহা তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে মিথ্যা কথা বলে পিরোজপুরসহ দেশের সকল ধর্মের লোকজনকে অপমান করেছেন। আমাদের এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে কোনো ঘটনা পিরোজপুর জেলার কোথাও ঘটেনি। পিরোজপুরের পুলিশ প্রশাসন সাম্প্রদায়িক যেকোনো বিষয়ে সবসময়ই গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, নাজিরপুর উপজেলায় বা পিরোজপুর জেলার কোথাও কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে কেউ চেষ্টা করলে পুলিশ প্রশাসন কঠোর হস্তে তা দমন করবে। দেশের বাহিরে গিয়ে যেকোনো নাগরিকের উচিত দেশের বিষয়ে ভেবে-চিন্তে কথা বলা।
উল্লেখ্য, প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস ‘শারি’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) নির্বাহী পরিচালক। সংস্থাটি বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করে বলে জানা গেছে। এ সংস্থা পরিচালিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক প্রিয়া সাহা। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের মৃত নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মেয়ে। তার শ্বশুরবাড়ি যশোর জেলায়। তার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দফতরে সহকারী উপ-পরিচালক পদে কমর্রত রয়েছেন। তারা ঢাকার ধানমন্ডিতে থাকেন। তাদের দুই মেয়ে প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষ্মী সাহা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করছে।
মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অপরাধে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
গত শুক্রবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তার ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই ঘোষণা দেন তিনি।
ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আজ আমি বাড়ি সিলেটে অবস্থান করছি। একটু আগে ফেসবুকে যে জিনিসটি ভাইরাল হয়েছে প্রিয়া সাহার। তিনি আমেরিকায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘুদের গুম করা হয়েছে। আরও অনেকে নাকি গুম হওয়ার পথে। এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদশে। সেখানে ওই নারী মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছেন। তাই আমি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করা কারো ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’
ব্যারিস্টার সুমন জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করব, আপনারা আমার পাশে থাকবেন।’
ঢাকায় প্রিয়া সাহার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ : বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তোলার কারণে প্রিয়া সাহার ঢাকার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে একদল যুবক।
গতকাল শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে প্রিয়া সাহার বাড়ির সামনে ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’ ব্যানারে ২০-২৫ জন প্রথমে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনের পর তারা প্রিয়া সাহার বাসায় তালা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও পরে তা আর করেননি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আব্দুল কাইয়ুম নামে এক শিক্ষানবীশ আইনজীবী বলেন, “প্রিয়া সাহা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন।
“তিনি সংখ্যালঘুদের কথা চিন্তা করে নয়, বরং তার যে দুই মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী তাদের নাগরিকত্ব পেতে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি অনেক কঠিন। তিনি মিথ্যাচার করে তার দুই মেয়ের নাগরিকত্ব নেওয়ার পথ পরিষ্কার করছেন।”
‘শারি’ নামে বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক প্রিয়া সাহা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক।
পিরোজপুরের মেয়ে প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা। তাদের দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শুভ অধিকার নামে আরেক জন বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা সব ধর্মের লোক মিলেমিশে বসবাস করছি।
“৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু খুন ও গুমের যে তথ্য দিয়ে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছেন, তা আমরা মানতে পারিনি। তাই আমাদের অবস্থান জানাতে তার বাসার সামনে দাঁড়িয়েছি।”
ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া প্রিয়া সাহা গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে গিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ হয়েছেন।