মিন্নির পক্ষে লড়বেন দেড়শ আইনজীবী

11

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষে আইনি লড়াই করবেন দেড়শ আইনজীবী।
গতকাল শনিবার একাধিক আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।
মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে প্রথমেই ঘোষণা দিয়েছেন ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। তিনিসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির ৪০ জন আইনজীবী ঢাকা থেকে বরগুনা আদালতে শুনানির জন্য যাবেন।
এছাড়া অন্যান্য সংস্থার আইনজীবীরাও যাবেন বলে জানা গেছে। মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নিজেরা করি, এএলআরডিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও প্রায় একশ আইনজীবী বরগুনায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্লাস্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেডআই খান পান্না জানান, মিন্নিকে আইনি সহায়তার জন্য তার সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রায় শতাধিক আইনজীবী বরগুনায় যাবেন।
জেডআই খান পান্না বলেন, এরই মধ্যে আমাদের আইনজীবীরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মামলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।
তিনি বলেন, ‘একজন স্বঘোষিত ঘুসদাতা ডিআইজি মিজানকে জেলেগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দিতে পারেন। অথচ ২০/২২ বছরের একটি মেয়েকে রিমান্ডের জন্য থানায় দিয়ে দিলেন আদালত। কীভাবে সম্ভব হলো। তদন্তের নামে যা খুশি তাই তো হতে পারে না।’
মিন্নিকে থানায় রিমান্ডে দেওয়া অবশ্যই ভুল হয়েছে বলেও উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বলতে পারতেন।
মিন্নির মামলার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে মামলাটি হাইকোর্টে নিয়ে আসব। এর সঙ্গে জড়িত সকলকে তলব করাব।’
আরেক আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা ৪০ জন আইনজীবী বরগুনায় যাব। এখন যেহেতু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি হয়ে গেছে। এ মামলার পরবর্তী ৩১ তারিখ জুলাই। ওইদিন আমরা যাব।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি হয়ে গেছে। তাকে তো কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন গিয়ে তো লাভ হবে না। এ কারণে ৩১ জুলাই যাব।’ মিন্নির বাবার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তড়িঘড়ি করে মিন্নির জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মিন্নির দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে ৩১ জুলাই আদালতে আবেদন করব।’
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচদিনের রিমান্ডে ছিলেন। তিনদিন রিমান্ডে থাকার পর শুক্রবার আদালত মিন্নির জবানবন্দি নেয়।
গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে জখম করে স্থানীয় সন্ত্রাসী নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিন্নি আক্রমণকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন।
গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মিন্নি ছিলেন এই মামলার প্রধান সাক্ষী।
রিফাত হত্যা মামলায় নয়ন বন্ড গ্রেপ্তার হলেও পরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার মৃত্যু হয়।
গত ১৩ জুলাই রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, তার ছেলে রিফাতকে হত্যায় পুত্রবধূ মিন্নির হাত রয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান রিফাতের বাবা।
এর তিনদিনের মাথায় মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ জুন বরগুনা পুলিশ লাইনে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানায় রিফাত হত্যাকান্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে।