সুনামগঞ্জে ছেলে ধরা আতঙ্ক তিন পাগলকে গণধোলাই

12

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলায় চলছে শিশুদের ধরে নিয়ে মাথা কেটে ফেলার আতঙ্ক। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। ইতোমধ্যে জেলার তিন উপজেলায় তিন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার হচ্ছে।
গত শনিবার রাতে তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামের নদী তীর থেকে অজ্ঞাতনামা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে স্থানীয় কিছু যুবক আটক করে মানিগাঁও চকবাজার এলাকায় নিয়ে যায়।
এ সময় তারা গলাকাটাতে আসছে বলে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে। তাদের চিৎকার শুনে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই ব্যাক্তি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় কিছু লোক তাকে একটি দোকানঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আমির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানলে পড়েন। আবারো স্থানীয় জনতা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। এ সময় পুলিশ কৌশল অবলম্বন করে ওই ব্যক্তিকে বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসে। পরে তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে আটক করে গণধোলায় দিয়েছে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গত শনিবার রাতের বেলা জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের পুরাতন গদিগাঁও গ্রামের আবদুল মতলিব মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (২৬)। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, রাতে মতিন মিয়ার বাড়ির এক নারী প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে অন্ধকারে এক অপরিচিত যুবককে দেখতে পান। ওই নারীকে দেখতে পেয়েই দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে নারীর চিৎকারে এলাকাবাসী তাকে আটক করে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ওই যুবকের পরিবার খবর পেয়ে থানায় জানায়- আটককৃত যুবক আফজাল সে দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক রোগী। তাকে গত তিন দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে রাতেই যুবকের পরিবারের লোকজন এসে যুবককে নিয়ে গেছে।
এদিকে গত রোববার দিনে ছাতকে ছেলেধরা সন্দেহে (৫৫) বছর বয়সের এক ব্যাক্তিকে পিটুনি দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মল্লিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, বিকালে ওই এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এক ব্যাক্তিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। ওসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসা দিয়ে ডাক্তাররা জানান সে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। তবে সে নাম পরিচয় কিছুই বলতে পারেনি।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সুনামগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতকসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার হচ্ছে। ছেলেধরা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য মাইকিংয়ে বলা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেন, এসব গুজবে স্থানীয় এলাকাবাসী যাতে কর্ণপাত না করে এবং এলাকায় সন্দেহভাজন কাউকে ঘুরাফেরা করতে দেখলে তাকে মারধর না করে নিকটস্থ থানা অথবা ফাঁড়িতে জানানোর জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে। এজন্য প্রতিটি থানায় মাইকিং করার জন্য।