প্রিয়ার বিচার চান সংখ্যালঘুরাও

16

সবুজ সিলেট ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হয়ে নালিশ করেছেন, সেই সংখ্যালঘুরাই সমর্থন করছেন না তার এই বক্তব্যকে। তারা প্রিয়া সাহার অভিযোগকে বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে তার প্রিয়া সাহার বিচারের দাবি করেন।
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে যান হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ (ডিজঅ্যাপিয়ার্ড) হয়েছেন।’ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল বলেন, ‘ট্রাম্পের কাছে করা প্রিয়া সাহার এই অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। ৩৭ মিলিয়ন বা কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের মানুষ উধাও হয়েছে-এ তথ্য বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের কাছে বিচার চাওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা সম্মিলিতভাবে প্রিয়া সাহার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।’
‘প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশের শুভবোধসম্পন্ন সব মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে। দেশের সব মানুষ তার এই অপকর্মের ধিক্কার ও নিন্দা করছে। প্রিয়া সাহার বক্তব্যের মাধ্যমে প্ররোচণাকারী গোষ্ঠী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।’
প্রিয়া সাহার বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা কি না-জানতে চাইলে সুব্রত পাল বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা মনে করি এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বক্তব্যের তদন্তসাপেক্ষে আমরা তার বিচার দাবি করি। এ ধরনের বক্তব্যে আমরা অবাক হয়েছি। উনি কীভাবে বা কোথায় এমন তথ্য পেলেন সেটার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও সচিব নির্মল রোজারিও বলেন, ‘আমরা এটার বিচার চাই। আমিও সেখানে গিয়েছিলাম প্রতিনিধি হিসেবে। উনি আমাদের সাথে ছিলেন না। সেখানে আমাদের কোনো বিশেষ বক্তব্য ছিল না। প্রিয়া সাহা গিয়েছিলেন একজন ব্যক্তি সারভাইবাল হিসেবে।’