নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে জঙ্গি সন্দেহে এক বাংলাদেশি আটক

9

কামরুজ্জামান (হেলাল) যুক্তরাষ্ট্র:

নিউইয়র্কে জঙ্গি সন্দেহে দেলোয়ার মোহাম্মদ হোসাইন (৩৩) নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে এফবিআই। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। নগরীর ব্রঙ্কসে বসবাসরত দেলোয়ার হোসেনের বাংলাদেশি আমেরিকান পরিচয়ের কথা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোহাম্মদ হোসাইন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তালেবানের সঙ্গে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে করে আফগানিস্তানে পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল তার। আটক করার পর ওই ব্যক্তিকে ম্যানহাটনের আদালতে তোলা হয়। এ সময় আদালত ওই বাংলাদেশিকে জামিন না দিয়ে আটক রাখার নির্দেশ দেন। এফবিআই কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিচালক মাইকেল ম্যাক গিরিটি জানান, দেলোয়ার হোসাইনের উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবানদের সঙ্গে যোগ দেওয়া। এবং সেখানে থাকা আমেরিকান সৈন্যদের হত্যা করা। কিন্তু তার সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তার আগেই এফবিআইয়ের সদস্যরা তাকে আটক করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেলোয়ারের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতে আরও বলা হয়, দেলোয়ার এফবিআইয়ের নিয়মিত নজরদারিতে ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকেই তিনি জঙ্গি দল তালেবানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। দেলোয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এফবিআইয়ের আন্ডার কভার সোর্সের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেলোয়ারের পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কয়েকজনকে হত্যা করার কথা আন্ডার কভার এজেন্টকে বলেছিলেন দেলোয়ার। হত্যার পরিকল্পনাও এফবিআই এজেন্টকে জানিয়েছিলেন তিনি। আরও অভিযোগ, দেলোয়ার প্রথমে থাইল্যান্ড, এরপর পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। ওয়াকিটকি এবং ট্র্যাকিং গিয়ারের মতো সরঞ্জামও কিনেছিলেন। আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পরপরই অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। দেলোয়ার এফবিআই এজেন্টকে বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা বৈধ কেননা পুরো দুনিয়া আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে, দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে নয় এসব বক্তব্যের রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অ্যান্টিটেররিজম অ্যাওয়ারনেস নিয়ে সক্রিয় বাংলাদেশি ইমাম কাজী কাইয়্যুম উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, ‘নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে আসা ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক মহল নানাভাবে এসব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কাজের জন্য ইন্ধন দিচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার পর বাংলাদেশের নাম যখন সংবাদে উচ্চারিত হয়, তখন আমরা লজ্জিত হই। নিন্দা জানাই।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনসমাজ সম্মিলিতভাবে মদদদাতা ও উর্বরতার যোগানদাতা ধর্মাশ্রয়ী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে না পারলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এর আগে ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের ভূগর্ভস্থ পথে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে আকায়েদ উল্লাহ নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিল। তিনি নিজের শরীরে ‘পাইপ বোমা’ বেঁধে বিস্ফোরণের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তা ঠিকমত বিস্ফোরিত হয়নি। এতে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে। এ বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন আরো তিন পুলিশ সদস্য। পরে নিউইয়র্ক পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে এ হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।