লঙ্কাওয়াশ এড়াতে ২৯৫-র কঠিন পরীক্ষা

11

ধবলধোলাই ঠেকাতে কঠিন পথই পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে। কলম্বোর প্রেমাদাসায় আজ শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশকে দিয়েছে ২৯৫ রানের বড় লক্ষ্য। লঙ্কানদের বিপক্ষে কখনোই এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জেতেনি বাংলাদেশ। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দুটি তিন শ পেরোনো স্কোর তাড়া করে জিতেছে। সেসব অবশ্য দূর অতীতের স্মৃতি বলেই মনে হচ্ছে এখন।

অথচ আজ বাংলাদেশের বোলারদের সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ভালেভাবেই চাপে রাখা। একটা সময় কাজটা ভালোই করছিলেন শফিউল-তাইজুলরা। ২১.২ ওভারে ৯৮ রানে ৩ উইকেটে ফেলে দিয়ে বাংলাদেশের বোলাররা কঠিন করে তুলেছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের কাজ। কিন্তু চাপটা পরে আর ধরে রাখা যায়নি। কুশল মেন্ডিস-অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০১ রান যোগ করে উল্টো চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশকে।

সৌম্য সরকারের বলে সাব্বির রহমানের ক্যাচ হয়ে কুশল ফেরেন ৫৮ বলে ৫৪ রান করে। সৌম্যর আরেক শিকার হয়ে ম্যাথুস আউট হয়েছেন ৮৭ রান করে। শ্রীলঙ্কাকে বড় স্কোর পেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ম্যাথুস-দাসুন শানাকার পঞ্চম উইকেটে ২৭ বলে ৫২ রানের জুটি। শফিউল ইসলামের বলে ফেরার আগে শানাকা করেছেন ১৪ বলে ৩০ রান। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলিংটা হয়েছে যাচ্ছেতাই, ৬০ বলে দিয়েছে ১০৬ রান।

স্লগ ওভারে বোলিং এতটাই বাজে, কে বলবে শফিউল-রুবেলরা শুরু করেছিলেন দারুণ! লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে ও আভিষ্কা ফার্নান্দোর উদ্বোধনী জুটিতে তেমন রান ওঠেনি। ৪.৩ ওভারে ফার্নান্দোকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পেসার শফিউল ইসলাম। ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কুশল পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন করুনারাত্নে। ওপেনার করুনারাত্নেকে (৪৬) ফিরিয়ে সেই জুটি ভেঙেছেন তাইজুল ইসলাম।

স্কোর বোর্ডে আর ২ রান তুলতেই ফিরে যান পেরেরা। রুবেল হেসানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। ফলে ৯৬ থেকে ৯৮ রান পর্যন্ত যেতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। এর পরই কুশল-ম্যথুসের লম্বা এক জুটি আর শেষ দিকে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ঝড়। শেষ পর্যন্ত বড় স্কোরই গড়ল শ্রীলঙ্কা। সৌম্য-তাইজুল ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন। বিনিময়ে ওভার প্রতি ৬-এর ওপর রান গুনেছেন।

ধবলধোলাই এড়াতে এ ম্যাচে তামিম-মাহমুদউল্লাহ-সৌম্যদের দুর্দান্ত ব্যাটিং করতেই হবে। কিন্তু সংশয়টা এখানেই—দলের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই যে ব্যাটিং ভুলে গেছেন!