যুক্তরাষ্ট্র নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স, আইন বিষয়ক সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের নানা পরামর্শ

14

কামরুজ্জামান (হেলাল) যুক্তরাষ্ট্র:

নিউইয়র্কে বিশেষজ্ঞদের নানা পরামর্শের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স ও আইন বিষয়ক সেমিনার। সেমিনারে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স ও আইনের সাংঘর্ষিক ও তুলনামুলক পর্যালোচনা করা হয়। গত ২ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বাংলাদেশি এবং মার্কিন আইনজীবী ও ট্যাক্স বিশেষজ্ঞগণ তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. বশির আহমেদ। কীনোট স্পীকার ছিলেন অ্যাটর্নি ব্রুস ফিশার। সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন সিপিএ ইয়াকুব এ খান, অ্যাটর্নি হাসান মালিক, ব্যারিস্টার কাজল, অ্যাটর্নি খায়রুল বাসার, অ্যাটর্নি এলেন সাকানী, চেজ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জুবের চৌধুরী প্রমুখ। মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ এন মজুমদার, মাস্টার অব ল। সিপিএ ইয়াকুব এ খান, এবিবিএ’র প্রেসিডেন্ট ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এবং ল’ অফিস অব ব্যারী সিলভার’র মোহাম্মদ এন মজুমদার মাস্টার অব ল এর আয়োজনে এটি ছিল ফ্রি সেমিনার। সেমিনারের বিষয় বস্তু তুলে ধরে মোহাম্মদ এন মজুমদার প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ট্যাক্স ও আইনগত সহায়তা দিতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এ সেমিনারের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে কমিউনিটিকে সচেতন করা। বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে আইনি জটিলতা সমাধানের কিছু বিষয় তুলে ধরা। যাতে তারা উপকৃত হতে পারেন। সেমিনারে ইয়াকুব এ খান, সিপিএ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। ট্যাক্স আইনের পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় বিষয়েও নানা পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। ইয়াকুব এ খান, সিপিএ বলেন, ফ্যাটকা’র আওতায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের বাংলাদেশে কিংবা বিশ্বের অন্য কোন দেশে বিনিয়োগকৃত নির্ধারিত অর্থ বা এই ধরনের বিনিয়োগ এবং তার আয় যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স ফাইলে রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফ্যাটকা এর আওতায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগকৃত নির্ধারিত অর্থ বা এই ধরনের বিনিয়োগ এবং তার আয় আমেরিকার ট্যাক্স ফাইলে রিপোর্ট করতে হবে। তথ্য গোপন না করে সঠিকভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ নির্ভূল তথ্য প্রদান করে ট্যাক্স রিটার্নের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় অডিটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অডিটে কোন অনিয়ম ধরা পড়লে পেনাল্টিসহ অন্যান্য কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে সিপিএ ইয়াকুব এ খান বলেন, ট্যাক্স সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে পরামর্শের জন্য আমাদের দরজা সব সময় খোলা। সেমিনারে অন্যান্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলিস্টরা বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে আইনি জটিলতা সমাধানে নানামুখি পরামর্শ তুলে ধরে করণীয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। অভিজ্ঞ প্যানেলিস্টরা বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স ও আইনের তুলনামুলক পর্যালোচনাপূর্বক তথ্যবহুল আলোচনা করেন। বাংলাদেশী অভিবাসীদের বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে আইনি জটিলতা সমাধানের প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরা হয় সেমিনারে। যাতে কমিউনিটির মানুষজন প্রচলিত আইন এবং বিধানের আওতায় সর্Ÿোচ্চ নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন। তারা অবৈধ অভিবাসীদের আইনগত পরামর্শ ও করণীয় সম্পর্কেও আলোকপাত করেন সেমিনারে। ইমিগ্রান্টদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথাও বলা হয় সেমিনারে। সব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ সার্টিফাইড প্রফেশনাল ও আইনজ্ঞদের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানান তারা। সকলের জন্য উম্মুক্ত এ সেমিনারে অভিজ্ঞ ট্যাক্স ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক আইনজীবী, সাংবাদিক কমিউনিটি এক্টিভিস্টসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। প্যানেলিস্টগণ দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেমিনারে যোগদানের জন্য প্রবাসীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোহাম্মদ এন মজুমদার, সিপিএ ইয়াকুব এ খান এবং ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।