যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পাওয়ার নতুন নিয়ম ঘোষণা।

115

কামরুজ্জামান (হেলাল)

যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য বৈধ অনুমোদনের প্রক্রিয়া বা গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পাওয়া আরও কঠিন হয়ে গেল। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পাওয়ার নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। নতুন নিয়মে মেডিকেড, ফুড স্ট্যাম্প, পাবলিক হাউজিং এবং অন্যান্য ফেডারেল সহায়তার প্রোগ্রামগুলোর উপর যে কোনও নির্ভরতা বহিরাগতদের গ্রিন কার্ড পাওয়া প্রায় দুরূহ হয়ে যাবে। নতুন নিয়ম অনুসারে মেডিকেড, ফুড স্ট্যাম্প, পাবলিক হাউজিং এবং অন্যান্য ফেডারেল সহায়তার প্রোগ্রামগুলোর উপর যে কোনও নির্ভরতা এখন “পাবলিক চার্জ” হিসাবে যোগ্য হতে পারে এবং অভিবাসীদের স্থায়ী মর্যাদার জন্য বিবেচনা করা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। শিক্ষা, বয়স, সম্পদ এবং ইংরেজিতে দক্ষতাও এই নিয়মের অধীনে সম্ভাব্য “পাবলিক চার্জ”। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য বৈধ অনুমোদন। গ্রিন কার্ড পাওয়ার পাঁচ বছর পরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। নতুন নিয়মে নিজেদের ভরণপোষণে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই সরকারের বোঝা হয়ে উঠবেন না এমন প্রমাণ দিতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড অথবা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে। যেসব অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের আইনি অনুমোদন পেয়েছে তারা এই নীতিমালার আওতাভুক্ত। যারা ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে না। তবে তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হতে পারে।

অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা যারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পান সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় তাদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা কার্যকর হবে না। মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য, উদ্বাস্তু ও আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই নীতিমালা কার্যকর হবে না।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন আদেশটি ঘোষণা করেন মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এর পরিচালক কেন কুচিনেল্লি। তিনি নতুন নিয়ম ঘোষণার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে ও থাকতে আগ্রহীরা আত্মনির্ভরশীল হবে। ‘আমরা চাই এমন মানুষ এ দেশে স্থায়ী বসবাসের জন্য আসুন, যাঁরা নিজেদের খরচ বহন করতে পারেন। এই নিয়মের ভিত্তিতে এ দেশে অভিবাসননীতি পরিচালিত হয়েছে।’ নতুন এই নীতিমালা ৬০ দিনের মধ্যে কার্যকর হওয়ার সময় নির্ধারিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, পারিবারিক সূত্রে যাঁরা নাগরিকত্বের সুযোগ পেত, তারাও এই নিয়মের আওতায় আসতে পারে। জানা গেছে, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছে—এমন ব্যক্তিদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য অন্তত তিন বছরের কর প্রদানের হিসাব ও এই সময়ে চাকরির প্রমাণ দেখাতে হবে। যাদের বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা আছে তাঁদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডের অনুমোদন সহজ হবে। এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, পারিবারিক সূত্রে অভিবাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে মেধাভিত্তিক নিয়ম চালু করতে তারা আগ্রহী। এই নিয়মে শিক্ষিত, আর্থিকভাবে সচ্ছল ও ইংরেজি ভাষায় অভিজ্ঞ আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কবে এই মেধাভিত্তিক নিয়ম চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করে—এমন বিভিন্ন সংস্থা নতুন এই নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এই ঘোষণার ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র মানুষেরা। বৈধ হওয়া সত্ত্বেও শুধু আইনি ঝামেলা এড়াতে ও ভয়ে তাঁদের অনেকেই খাদ্য, স্বাস্থ্য বা শিক্ষার মতো সরকারি অনুদান নিতে চাইবে না। ফলে, যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, যেমন শিশুরা, তারাই সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবে।

বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংস্থা জানিয়েছে, তাঁরা এই নীতিমালার বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করবে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলও জানিয়েছেন, তিনি এই নীতিমালার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। নতুন নীতিমালার ফলে যেসব অভিবাসী বা বহিরাগত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে চিন্তিত নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অফিস থেকে তাদের আইনি সাহায্যের জন্য ৩১১ নম্বরে ফোন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ফোন করবে তাদের ‘অ্যাকশন নিউইয়র্ক’ কথা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এতে সঠিক দপ্তরে তাদের প্রশ্ন পাঠানো সহজ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করে থাকে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮২ হাজার আবেদনকারী নতুন নীতিমালার আওতায় পড়তে পারে। নতুন আইনটি জারির ফলে সারা দেশে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে।

সুত্র: বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস।