বদলে গেছে মাধবপুরের কৃষি ও পর্যটন খাত

7

মাধবপুর প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চৌমুহনী ও বহরা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত সোনাই নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে দুটি রাবার ড্যাম। এই দুটি রাবার ড্যাম বদলে দিয়েছে এই অঞ্চলের কৃষি ও পর্যটন খাত।
চৌমুহনী ইউনিয়নের মহব্বতপুর এবং বহরা ইউনিয়নের বহরা নামক স্থানে সোনাই নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ‘চৌমুহনী রাবার ড্যাম’ এবং ‘বহরা রাবার ড্যাম’। এই দুটি রাবার ড্যামকে ঘিরে গড়ে উঠছে এ অঞ্চলের পর্যটন।
চৌমুহনী-ধর্মঘর সড়কে বরুড়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে দেড় কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথ পার হলেই দেখা যাবে চৌমুহনী রাবার ড্যাম। মনতলা-চৌমুহনী সড়কে কালিকাপুর নামক স্থান থেকে পশ্চিম দিকে ১ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথ পার হলেই দেখা যাবে বহরা রাবার ড্যাম।
কৃষি প্রধান এই এলাকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য পাকিস্তান আমল থেকে সোনাই নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রেখে চাষাবাদ করা হতো। ১৯৯৯ সালে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (প্রয়াত সমাজ কল্যাণ-মন্ত্রী) এনামূল হক মোস্তুফা শহীদের উদ্যোগে সোনাই নদীর ওপর চৌমুহনীর মহব্বতপুরে এবং বহরাতে রাবার ড্যাম দুটি নির্মাণ করা হয়। এই অঞ্চলে রাবার ড্যামকে ঘিরে একটি পর্যটন এলাকা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০০১ সালে ড্যামের বাস্তবায়ন হয় এবং এলাকার কৃষকদের নিয়ে গঠিত হয় সোনাই নদী রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি।
এলজিইডি এবং কৃষি মন্ত্রণালয় প্রায় ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এ রাবার ড্যাম দুটি তৈরি করেন। চৌমুহনী ইউনিয়নের মহব্বতপুর এলাকায় সোনাই নদীতে নির্মিত ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং বহরাতে ১কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৮ মিটার দৈর্ঘ্য রাবার ড্যাম নির্মিত হয়। ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় এ রাবার ড্যাম দুটির।
উদ্বোধনের পর রাবার ড্যাম দুটির জমানো পানি দিয়ে মহব্বতপুর, অলিপুর, তুলশীপুর, কলানগর, মঙ্গলপুর, বেলাপুর, কাশিমপুর, আলাবক্সপুর, রামপুর, বহরা, আফজলপুর, কালিকাপুরসহ আশে পাশের এলাকার জমি চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চৌমুহনী রাবার ড্যামটির দেয়াল ও পাঠাতন ধসে পড়ে। একই কারণে বহরা রাবার ড্যামটিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশেষে ২০১৭ স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর প্রচেষ্টায় রাবার ড্যাম দুটি সংস্কারের ফলে নতুন করে কৃষি ও পর্যটনে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দেয় এই অঞ্চলে ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাবার ড্যামের বাঁধের ওপর মনোরম একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। রাবার ড্যামের জমানো পানি উজানে সৃষ্টি করেছে আকর্ষণীয় লেক। লেকের জমানো পানি উজানে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। লেককে আনা হয়েছে মৎস্য প্রকল্পের আওতায়। দর্শনার্থীরা লেকে আনন্দ ভ্রমণ করেন।
রাবার ড্যামের চারপাশ সবুজে ঘেরা। যতদূরে চোখ যায়, শুধু দেখা যায় সবুজ আর সবুজ। দর্শনার্থীদের জন্য রাবার ড্যামের আশেপাশে বসার বেঞ্চসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা হলেও রাবার ড্যাম দুটি দর্শনার্থীদের কাছে বেশ সাড়া ফেলেছে।
বহরা রাবার ড্যামে দেখতে আসা পর্যটক আসিফ আহম্মেদ এবং তুর্জয় আহমেদ এর রাবার ড্যাম যাওয়ার রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখে মনক্ষুন্ন। তারা বলেন, রাবার ড্যাম যাওয়ার রাস্তা সংস্কার ও রাবার ড্যামের আশেপাশের এলাকায় আরো পর্যটন স্পট সৃষ্টি করা হলে এটি দেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।
এ ব্যাপারে সোনাই নদী রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন মনির জানান, রাবার ড্যাম দুটি সংস্কারের কারণে কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। দর্শনার্থীদের জন্য রাবার ড্যামের আশেপাশে বসার বেঞ্চসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। রাবার ড্যামের জমানো পানি দিয়ে প্রতি বছর আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হয়। রাবার ড্যাম যাওয়ার রাস্তার বেহাল দশার কথা ও সংস্কারের ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।