খালেদার মুক্তির বিষয় আন্তর্জাতিক মহলে তুলবে বিএনপি

6

সবুজ সিলেট ডেস্ক
দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
গত শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। আমরা বার বার চেষ্টা করেও তার সুচিকিৎসার ব্যাপারে সরকারকে রাজি করাতে পারিনি। আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে কোর্ট তাকে জামিন দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য ও তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
‘যেসব গণতান্ত্রিক দেশ আছে, আমরা তাদেরকে অবহিত করব এবং অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে যে আটক করে রাখা হয়েছে সে বিষয়টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব’— বলেন বিএনপির মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টা এসেছিল। কিন্তু হাইকোর্টে একটা নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর আমাদের ধারণা আরও দৃঢ় হয়েছে যে, বিচার ব্যবস্থা আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।’
আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইনিভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সে কারণে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। যেহেতু আগস্ট মাসে সরকার কোনো কর্মসূচি নিতে দেয় না, সে কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবার কর্মসূচি দেব।’
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরেন, ‘সবাই বলছেন আগামী মাসটা নাকি আরও খারাপ যাবে, ডেঙ্গু আরও বাড়বে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মশা নিধনের ওষুধ এসে পৌঁছায়নি। আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছিলাম, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে। সেটা সরকার করেনি। ফলে যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন তারা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না।’
‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, সম্পূর্ণ বিনা খরচে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য’-বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চামড়া শিল্প ধবংস করে দেওয়ার জন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার জন্য নিন্দা জানানো হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই শিল্পকে রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য জেলা-মহানগর-উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি, সভা-সমাবেশ-আলোচনাসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে র‌্যালি ও পরদিন আলোচনা সভা করব।’
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরুউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।