কুলাউড়ায় মামা-ভাগনের ঝগড়ায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের

18

কুলাউড়া প্রতিনিধি
কুলাউড়ায় ফানাই নদীতে মাছ ধরার জেরে দিল হোসেনের (৪০) সাথে তাঁর ভাগনে শিবলু মিয়ার ঝগড়া চলছিল। মামা- ভাগনের এই ঝগড়ার সময় ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছে অনিক মিয়া (১০) নামের এক মাদ্রাসাছাত্র। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার ভুকশীমইল ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত অনিক ওই এলাকার ইলাই মিয়ার পুত্র ও সাদিপুর ইসলামিয়া মাদরাসার ছাত্র। এব্যাপারে অনিকের মা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফানাই নদীর ভূকশিমইলের নবাবগঞ্জ বাজার অংশে মাছ ধরার জন্য দাড়াজাল (খেউ) ইজারা নিয়ে ইলাই মিয়া ও শিবুলর সঙ্গে তাঁদের মামা দিল হোসেনের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে বুধবার দিনে স্থানীয় ঘাটের বাজারে দিল ও শিবলুর বাগ্বিতন্ডা হয়। সেই বাগ্বিতন্ডার জেরে রাত আটটার দিকে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে শিবলু ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল ছুরি নিয়ে দিলের দিকে তেড়ে যান। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আজমান মিয়া শিবলুকে আগলে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। শিবলুর ভাতিজা অনিকও সেখানে দাঁড়ানো ছিল। আজমান মিয়ার সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শিবলু হাতে থাকা ছুরির আঘাত তাঁর ভাতিজা অনিকের হাতে ও পেটে লাগলে মারাত্মক জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটায় সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই দিন রাত ১২টার দিকে সে মারা যায়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ অনিকের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে অনিকের মা জেলি বেগম বাদি হয়ে শিবলু ও প্রতিবেশী আজমান মিয়াকে (২৫) আসামি করে মামলা করেন। অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করে শিবলু মিয়ার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন আল রশীদ বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহত অনিকের বাঁ হাত ও তলপেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে তার লাশ। আসামিরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।