কাশ্মীরে একদিকে বিক্ষোভ, অন্যদিকে কারফিউ

7

সবুজ সিলেট ডেস্ক
শুক্রবারের জুমআার নামাজকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে। জুমার নামাজের পর রাজধানী শ্রীনগরের জাতিসংঘ দফতর অভিমুখে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে কাশ্মীরিরা। এর বিপরীতে বিক্ষোভ দমনে আরো কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শুক্রবার শহরের বেশ কিছু অঞ্চলে জারি করা হয়েছে কারফিউ। সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুমআর নামাজকে কেন্দ্র করে শুত্রুবার সকাল থেকে আবারো আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে কাশ্মীর উপত্যকা। এদিন শ্রীনগরে ‘জাতিসংঘে চলো’ (ইউএন চলো) নামক বিক্ষোভ ও সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কায় স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। বড় ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জাতিসংঘ কার্যালয়ের আশেপাশে এসএসবি, সিআরপিএফ ও জেকেপি সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, শ্রীনগর শহরের প্রধান প্রধান সড়কে অবস্থিত মসজিদগুলো শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়েছে। খোলা থাকছে কলোনির ভেতরকার মসজিদগুলো। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বড় ধরনের জনসমাবেশ ঠেকাতে বিধিনিষেধ আরোপ জরুরি। নাহলে ‘দুর্বত্তরা’ সমস্যা তৈরি করতে এবং সহিংসতা উসকে দিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও ল্যান্ডফোন যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হওয়ার কারণে তাদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শ্রীনগর শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা এখনও অস্থিতিশীল আছে। সেখানকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাথর নিক্ষেপের মতো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি সপ্তাহেই শ্রীনগরের দেয়াল ছেয়ে গেছে প্রতিবাদী পোস্টারে। শহরটিতে অবস্থিত ভারত-পাকিস্তান নিয়ে জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপের দফতর অভিমুখে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে সেখানে। ১৯৪৯ সালে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান প্রথম যুদ্ধের পর এই দফতরটি এখানে স্থাপন করা হয়। এই পর্যবেক্ষক সংস্থাটি দুই দেশের যুদ্ধ ও অস্ত্রবিরতি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে।
শুক্রবার ওই দফতর অভিমুখে যাওয়া প্রধান সড়কের অবস্থান নিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী অনেক সদস্য। অন্তত দুটি জায়গায় বসানো হয়েছে বাধা। বিক্ষোভের কেন্দ্র হিসেবে শহরের পুরাতন কলোনিতেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। একাধিক জায়গায় তারকাঁটা বসিয়ে বন্ধ করা হয়েছে পথ।
বিগত দুই সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় শত শত মানুষ একাধিক বিক্ষোভ করেছে। পুলিশের নিক্ষেপ করা টিয়ার শেল ও ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫২ জন। শহরের বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ রয়েছে। বছরের অন্যান্য সময় পর্যটকে পরিপূর্ণ ডাল লেকেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বেশ কিছু জায়গায় পুলিশ টহল দিচ্ছে এবং কারফিউয়ের ঘোষণা দিচ্ছে। সবাইকে ঘরের ভেতর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষে জি৭ সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাপ করার পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। আর গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় তা। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। গ্রেফতার করা হয় সেখানকার বিপুলসংখ্যক স্বাধীনতাপন্থি ও ভারতপন্থি রাজনৈতিক নেতাকে। তবে গত কয়েকদিন ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কড়াকড়ি শিথিল করতে দেখা যায়। রাস্তাঘাটে বেড়েছিল যানবাহনের উপস্থিতি। সন্ধ্যার দিকে দোকানগুলোও খোলা হচ্ছিলো।