চিকিৎসক সংকটে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল

8

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
ডাক্তার, নার্স, স্টাফ, বেড আর ঔষধ সংকটের ফলে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। জেলার ২১ লাখ জনসংখ্যার চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সম্প্রতি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত হওয়া হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালকে।
হাসপাতালটিতে একদিকে যেমন ডাক্তার সংকট অন্যদিকে রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট। সেই সাথে নেই হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহেরও ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধের সরবরাহ। এতকিছুর পরেও নানা জোড়াতালি দিয়ে মাসের পর মাস নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটি। আর এতে করে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সরকারি এই হাসপাতালের নানা দুর্নাম।
২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবিগঞ্জ সফরে আসলে এই হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণার পর পরই দ্রুত বাস্তবায়নে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগেই বরাদ্ধ দেন সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক একটি ৮ তলা ভবনের। দীর্ঘ দুই বছর টানা কাজের পর গড়ে ওঠে একটি নতুন ৮তলা ভবন। সেই অনুযায়ী একটি ভবনও নির্মিত হয়। তবে এ ভবনটি বর্তমানে অনেকটা পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার যথাযত বাস্তবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটি এখনো চলছে সেই পূর্বের ৫০শয্যার জনবলের কাঠামো দিয়ে। শুরুতে হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার, পরে সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও আজও এর জনবল সৃষ্টি হয়নি। এরই মাঝে সম্প্রতি অত্র হাসপাতালটিকে আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বছর ঘুরে আবার নতুন বছর শুরু হলেও বাড়েনি এর সেবার পরিধি। সৃষ্টি হয়নি নতুন জনবল নিয়োগের জন্য পদ-পদবি।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নূন্যতম ৫৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু হবিগঞ্জ হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৮টি। যার মধ্যে অধিকাংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য হয়ে আছে। আর যে সকল পদে ডাক্তার রয়েছেন তার মধ্যেও অনেক চিকিৎসক প্রেষণে কর্মরত আছেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এমন অবস্থা দৃষ্টে মনে এ যেন দেখার কেউ নেই।
হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেটি শুধু নামেই ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। এটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও হাসপাতালে বাড়েনি বেড, ডাক্তার, নার্স বা স্টাফদের সংখ্যা। জেলার প্রায় ২১ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা দেন মাত্র ৮ জন ডাক্তার। সে হিসাবে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ জন রোগীর চিকিৎসা দেয়ার জন্য রয়েছেন একজন ডাক্তার। তবে খাতা-কলমে ২১ জন ডাক্তার থাকলেও পাঁচজন আছেন প্রেষণে। শুধু বেতন-ভাতা তুলছেন এ পাঁচজন। আবার অবশিষ্ট ১৬ জনের মধ্যে অন্যত্র প্রেষণে চলে গেছেন আরো ৮ জন ডাক্তার। আবার ওই ৮ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে প্রেষণে চলে গেছেন আরো ২ ডাক্তার। ফলে ৬ জন ডাক্তার প্রতিদিন সেবা দিচ্ছেন অন্তত ৮ শতাধিক রোগীর। এমন পরিস্থিতিতে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠছেন ডাক্তাররা।
এখানে নেই কোনো সার্জারি ডাক্তার। জরুরি বিভাগে কর্মরত ডাক্তাররা ওই বিভাগে কাজের পাশাপাশি ৫০-১০০ জন রোগীও দেখছেন। হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবাকেন্দ্র চালু থাকলেও নেই গাইনি ডাক্তার।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) দেবাশীষ দাশ বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৩০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসা নেন আরও ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী। এক্ষেত্রে জরুরি বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ২৪ ঘণ্টাই একজন ডাক্তার থাকা প্রয়োজন। এখানে অন্যান্য পদের ডাক্তারদের এনে সেবা দিতে হয়। জরুরি বিভাগের ডাক্তারদেরই সার্জারি করতে হয়, আবার ওয়ার্ডেও ডিউটি করতে হয়। রেস্টলেস কাজ করতে হয় আমাদের। কারও পক্ষে তেমন ছুটি কাটানোরও সুযোগ হয় না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রথীন্দ্র চন্দ্র দেব বলেন, একটি হাসপাতালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ মেডিসিন, গাইনি সার্জারী ও শিশু। কিন্তু এসব পদের ডাক্তার এখানে নেই। জরুরি প্রসূতি সেবা পর্যন্ত বাইরে থেকে ডাক্তার এনে দিতে হয়। কর্মরত ডাক্তাররা সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘ডাক্তার সংকটের বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। সম্প্রতি আবারও চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত ৪০টি পদের মধ্যে ১৯টি পদই খালি। হাসপাতালে কর্মরত ২১ জনের মধ্যে পাঁচজন প্রেষণে কাজ করছেন। ১৬ জন ডাক্তার আছেন। আবার ওই ১৬ জনের মধ্যে আরো ৮জন আছেন অন্যত্র প্রেষণে। এ অবস্থায় রোগীদের সেবা দিতে বেগ পেতে হয় আমাদের। গত কয়েকদিন যাবৎ অফিসের কাজ ফেলে রেখে আমি নিজেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাউন্ড ডিউটি করছি।’
হাসপাতালের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হাসপাতালে মোট ৪০ জন ডাক্তারের পদ আছে। এর বিপরীতে ২১ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু) বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল ঢাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে সংযুক্ত আছেন। মেডিকেল অফিসার ১৪টি পদের বিপরীতে আটজন কর্মরত থাকলেও তাদের মধ্যে দুজন হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে সংযুক্ত আছেন। বাস্তবে হাসপাতালে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন।
মেডিকেল অফিসার আয়ুর্বেদ নরসিংদী জেলা হাসপাতাল এবং সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা বরিশাল সিএস অফিসে প্রেষণে আছেন। সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া), অ্যানেসথেটিস্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (রেডিওলজিস্ট), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো-সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার (রক্ত) ও হেলথ এডুকেশন কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদের ডাক্তার নেই। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার তিনটি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে দুটি। অথচ সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ৫৮টি ডাক্তারের পদ রয়েছে।
হাসপাতালের একাধিক ডাক্তার জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ডাক্তারের ভয়াবহ সংকট। একজন ডাক্তারকে সার্জারি, ওয়ার্ডে ডিউটি এবং আউটডোরে রোগী দেখতে হয়। অথচ সার্জারির পর একজন ডাক্তারের মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছু সময় বিশ্রাম নিতে হয়। এখানে ইওসি (জরুরি প্রসূতি সেবাকেন্দ্র) চালু আছে। এখানে ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা দেয়ার কথা। কিন্তু গাইনি ডাক্তার নেই। প্রতিদিন অসংখ্য প্রসূতি রোগীকে সেবা দিতে হয়। অনেকগুলো ডেলিভারি রোগী থাকেন। সিজারও করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব দেয়ার জন্য বাইরে থেকে ডাক্তার আনতে হয়। অথবা অন্যান্য বিভাগের ডাক্তারদের এসব সেবা দিতে হয়। এ অবস্থায় রোগীদের সেবাদানে ডাক্তারদের বেশ বেগ পেতে হয়। জরুরি কয়েকটি পদ পূরণ করা গেলে সেবা কার্যক্রমে গতি আনা সম্ভব হবে বলে জানান তারা।

চিকিৎসক সংকটে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
ডাক্তার, নার্স, স্টাফ, বেড আর ঔষধ সংকটের ফলে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। জেলার ২১ লাখ জনসংখ্যার চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সম্প্রতি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত হওয়া হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালকে।
হাসপাতালটিতে একদিকে যেমন ডাক্তার সংকট অন্যদিকে রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট। সেই সাথে নেই হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহেরও ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধের সরবরাহ। এতকিছুর পরেও নানা জোড়াতালি দিয়ে মাসের পর মাস নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটি। আর এতে করে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সরকারি এই হাসপাতালের নানা দুর্নাম।
২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবিগঞ্জ সফরে আসলে এই হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণার পর পরই দ্রুত বাস্তবায়নে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগেই বরাদ্ধ দেন সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক একটি ৮ তলা ভবনের। দীর্ঘ দুই বছর টানা কাজের পর গড়ে ওঠে একটি নতুন ৮তলা ভবন। সেই অনুযায়ী একটি ভবনও নির্মিত হয়। তবে এ ভবনটি বর্তমানে অনেকটা পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার যথাযত বাস্তবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটি এখনো চলছে সেই পূর্বের ৫০শয্যার জনবলের কাঠামো দিয়ে। শুরুতে হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার, পরে সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও আজও এর জনবল সৃষ্টি হয়নি। এরই মাঝে সম্প্রতি অত্র হাসপাতালটিকে আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বছর ঘুরে আবার নতুন বছর শুরু হলেও বাড়েনি এর সেবার পরিধি। সৃষ্টি হয়নি নতুন জনবল নিয়োগের জন্য পদ-পদবি।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নূন্যতম ৫৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু হবিগঞ্জ হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৮টি। যার মধ্যে অধিকাংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য হয়ে আছে। আর যে সকল পদে ডাক্তার রয়েছেন তার মধ্যেও অনেক চিকিৎসক প্রেষণে কর্মরত আছেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এমন অবস্থা দৃষ্টে মনে এ যেন দেখার কেউ নেই।
হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেটি শুধু নামেই ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। এটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও হাসপাতালে বাড়েনি বেড, ডাক্তার, নার্স বা স্টাফদের সংখ্যা। জেলার প্রায় ২১ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা দেন মাত্র ৮ জন ডাক্তার। সে হিসাবে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ জন রোগীর চিকিৎসা দেয়ার জন্য রয়েছেন একজন ডাক্তার। তবে খাতা-কলমে ২১ জন ডাক্তার থাকলেও পাঁচজন আছেন প্রেষণে। শুধু বেতন-ভাতা তুলছেন এ পাঁচজন। আবার অবশিষ্ট ১৬ জনের মধ্যে অন্যত্র প্রেষণে চলে গেছেন আরো ৮ জন ডাক্তার। আবার ওই ৮ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে প্রেষণে চলে গেছেন আরো ২ ডাক্তার। ফলে ৬ জন ডাক্তার প্রতিদিন সেবা দিচ্ছেন অন্তত ৮ শতাধিক রোগীর। এমন পরিস্থিতিতে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠছেন ডাক্তাররা।
এখানে নেই কোনো সার্জারি ডাক্তার। জরুরি বিভাগে কর্মরত ডাক্তাররা ওই বিভাগে কাজের পাশাপাশি ৫০-১০০ জন রোগীও দেখছেন। হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবাকেন্দ্র চালু থাকলেও নেই গাইনি ডাক্তার।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) দেবাশীষ দাশ বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৩০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসা নেন আরও ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী। এক্ষেত্রে জরুরি বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ২৪ ঘণ্টাই একজন ডাক্তার থাকা প্রয়োজন। এখানে অন্যান্য পদের ডাক্তারদের এনে সেবা দিতে হয়। জরুরি বিভাগের ডাক্তারদেরই সার্জারি করতে হয়, আবার ওয়ার্ডেও ডিউটি করতে হয়। রেস্টলেস কাজ করতে হয় আমাদের। কারও পক্ষে তেমন ছুটি কাটানোরও সুযোগ হয় না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রথীন্দ্র চন্দ্র দেব বলেন, একটি হাসপাতালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ মেডিসিন, গাইনি সার্জারী ও শিশু। কিন্তু এসব পদের ডাক্তার এখানে নেই। জরুরি প্রসূতি সেবা পর্যন্ত বাইরে থেকে ডাক্তার এনে দিতে হয়। কর্মরত ডাক্তাররা সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘ডাক্তার সংকটের বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। সম্প্রতি আবারও চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত ৪০টি পদের মধ্যে ১৯টি পদই খালি। হাসপাতালে কর্মরত ২১ জনের মধ্যে পাঁচজন প্রেষণে কাজ করছেন। ১৬ জন ডাক্তার আছেন। আবার ওই ১৬ জনের মধ্যে আরো ৮জন আছেন অন্যত্র প্রেষণে। এ অবস্থায় রোগীদের সেবা দিতে বেগ পেতে হয় আমাদের। গত কয়েকদিন যাবৎ অফিসের কাজ ফেলে রেখে আমি নিজেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাউন্ড ডিউটি করছি।’
হাসপাতালের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হাসপাতালে মোট ৪০ জন ডাক্তারের পদ আছে। এর বিপরীতে ২১ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু) বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল ঢাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে সংযুক্ত আছেন। মেডিকেল অফিসার ১৪টি পদের বিপরীতে আটজন কর্মরত থাকলেও তাদের মধ্যে দুজন হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে সংযুক্ত আছেন। বাস্তবে হাসপাতালে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন।
মেডিকেল অফিসার আয়ুর্বেদ নরসিংদী জেলা হাসপাতাল এবং সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা বরিশাল সিএস অফিসে প্রেষণে আছেন। সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া), অ্যানেসথেটিস্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (রেডিওলজিস্ট), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো-সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার (রক্ত) ও হেলথ এডুকেশন কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদের ডাক্তার নেই। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার তিনটি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে দুটি। অথচ সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ৫৮টি ডাক্তারের পদ রয়েছে।
হাসপাতালের একাধিক ডাক্তার জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ডাক্তারের ভয়াবহ সংকট। একজন ডাক্তারকে সার্জারি, ওয়ার্ডে ডিউটি এবং আউটডোরে রোগী দেখতে হয়। অথচ সার্জারির পর একজন ডাক্তারের মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছু সময় বিশ্রাম নিতে হয়। এখানে ইওসি (জরুরি প্রসূতি সেবাকেন্দ্র) চালু আছে। এখানে ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা দেয়ার কথা। কিন্তু গাইনি ডাক্তার নেই। প্রতিদিন অসংখ্য প্রসূতি রোগীকে সেবা দিতে হয়। অনেকগুলো ডেলিভারি রোগী থাকেন। সিজারও করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব দেয়ার জন্য বাইরে থেকে ডাক্তার আনতে হয়। অথবা অন্যান্য বিভাগের ডাক্তারদের এসব সেবা দিতে হয়। এ অবস্থায় রোগীদের সেবাদানে ডাক্তারদের বেশ বেগ পেতে হয়। জরুরি কয়েকটি পদ পূরণ করা গেলে সেবা কার্যক্রমে গতি আনা সম্ভব হবে বলে জানান তারা।