গুড়ের যত গুণ!

18

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ছোটবেলা থেকে ঝোলা গুড়ের সাথে রুটি, নারিকেল-গুড়ে তৈরি নাড়ু, পায়েশ, পুলিপিঠা খেয়ে বড় হওয়া আমাদের। মিষ্টি খাবারের মাঝে গুড়ের উপস্থিতি সবসময়ই ছিল ও এখনও আছে। অতি পরিচিত গুড় নিয়ে কিংবা তার উপকারিতা নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা তাই কখনো মাথাতে আসেনি কারো।
উপকারিতা সম্পর্কে জানানোর আগে অন্তত এতটুকু বলা যায়, রিফাইন্ড সাদা চিনির চাইতে গুড় অনেকখানি স্বাস্থ্যকর। কারণ গুড় থেকে পাওয়া যায় ফাইটোকেমক্যালসহ অন্যান্য বেশ কিছু উপকারী মিনারেল। পরিমিত পরিমাণ গুড় গ্রহণে ক্ষতির সম্ভাবনার চাইতে তাই উপকারিতাই বেশি। আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো গুড়ের এমন কয়েকটি দারুণ স্বাস্থ্য উপকারিতার দিকগুলো।
ত্বকের জন্য উপকারী : ৩০-৪০ শতাংশ জলীয় অংশ, সুক্রোজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন-বি, পটাশিয়াম ও জিংক সমৃদ্ধ গুড় ত্বককে সুস্থ রাখতে কাজ করে। নানাবিধ মিনারেল সমৃদ্ধ গুড় ব্রণের সমস্যাকে দূর কতে কাজ করার পাশপাশি কিছু ক্ষেত্রে বলীরেখা দেখা দেওয়া ও ত্বকের কালচে ভাব প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে :
খাদ্য পরিপাকে সহায়ক এনজাইমের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে গুড়। যার ফলে খাদ্য সহজেই পরিপাক হয়। এছাড়া বাওয়েল মুভমেন্টজনিত সমস্যা, কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা ও খাবার সঠিকভাবে পরিপাক না হওয়ার সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা পালন করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে : শরীরের নির্দিষ্ট কয়েকটি ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করে গুড়। কারণ গুড়ে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মিনারেল ও ভিটামিন সমূহ। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে ও শক্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। বিশেষত শীতকালীন সময়ে গুড় ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তচাপ : গুড়ে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম খুব চমৎকারভাবে শরীরের অ্যাসিডিক লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। যার ফলে রক্তচাপ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব হয়।
রক্তকে পরিশুদ্ধ করে : বেশকিছু ক্ষেত্রে গুড় ক্লিনজিং অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং রক্ত থেকে টক্সিক ও ক্ষতিকর উপাদানকে সরিয়ে ফেলতে কাজ করে। এছাড়া গুড়ে থাকা প্রচুর পরিমাণ আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রাকে ঠিক রেখে অ্যানিমিয়ার সমস্যা কমাতেও কাজ করে।
উপরেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুড়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম, যা শরীরের ইলেক্ট্রলাইটের মাত্রা সাম্যাবস্থায় রাখতে কাজ করে। এছাড়া গুড় মেটাবলিজমের হার বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে। যা ক্ষেত্র বিশেষে ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।