বিয়ানীবাজারে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়

8

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ভর্তির সময় ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাধ্যতামূলক ফি আদায় করা হয়। অথচ যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজনের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে চাঁদা আদায় করার কারণ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ক্রীড়া ফির নামে আদায় করা লাখ-লাখ টাকা যায় কোথায়, ব্যয় হয় কিভাবে-এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা।
বিতর্কের শুরু ৪৮তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসার গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সভায়। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪৮তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের হলরুমে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমান জানান, খেলাধুলা আয়োজনে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করে এসব ক্রীড়ানুষ্ঠান সফল করতে হয়। সভায় তিনি আরো দাবি করেন, জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রতিষ্ঠান প্রতি আরো ২শ’ টাকা করে সম্মানী দিতে হবে। এ সময় সভায় কিছুটা হট্টগোল দেখা দেয়।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরো বলেন, গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজনে বিয়ানীবাজার উপজেলার জন্য মাত্র ২৭০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ সময় প্রতিযোগিতার ব্যয় সংকুলানে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ত্রিশ হাজার টাকার অনুদান ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৮শ’ টাকা হারে বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উপজেলা দুর্র্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাবুল আহমদ জানান, সব জায়গায় দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মাত্রা আরেকটু বেশি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আবার অন্যখাতে কিংবা অপরিষ্কারভাবে ব্যয় করার তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে অবহিত করবেন বলে উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রতিবছর অষ্টম ও নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা রেজিস্ট্রেশনকালে শিক্ষা বোর্ডে ক্রীড়া ফি পরিশোধ করে। এসময় শিক্ষার্থী প্রতি ৩০ টাকা করে নেয়া হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান প্রতি আরো ৩শ’ টাকা করে অধিভুক্তি ফি নেয়া হয়। এসব আদায়কৃত টাকার অর্ধেকও খেলাধুলায় ব্যয় নির্বাহে লাগার কথা নয়। তার উপর বাধ্যতামূলক চাঁদার প্রয়োজন কেন এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মৌলুদুর রহমান। শিক্ষাবোর্ডগুলো ক্রীড়া ফি থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা আদায় করে থাকে।
এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মজিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রীড়া ফির নামে আদায় করা টাকার একটি অংশ যায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। আর বাকি টাকা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওই খাতে জমা রাখা হয়। তিনি দাবি করেন, গ্রীষ্মকালীন অথবা শীতকালীন ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজনে বোর্ড থেকে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছায় কিনা তা তার জানা নেই।