প্রাণের টানে নদীর পানে………

8

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, জকিগঞ্জ
সূর্যের কড়া উত্তাপ আর প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে বিনোদনপ্রেমী হাজারো মানুষ গত সোমবার জড়ো হয়েছিলেন জকিগঞ্জের আটগ্রামে। চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিনোদন নৌকাবাইচ উপভোগ করতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল সুরমা নদীর দুই তীরে। শুধু মাঝি-মাল্লা নন প্রাণের টানে নদীর পানে ছুটে আসেন রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
আটগ্রাম কারাবাল্লা আঞ্চলিক সংস্থা কমিটি আয়োজন করে ১৯তম এই প্রতিযোগিতার। এ উপলক্ষ্যে বছরে একবার নীরব-নিস্তব্ধ আটগ্রাম বাজার এলাকা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। কিস্তি নৌকার দোলায় প্রবলভাবে দুলছিল নীলচক্ষু সুরমার অশান্ত জল। পড়ন্ত বিকেলে সুরমার ছলাৎ ছলাৎ জলে রংবেরঙের নৌকাদৌঁড় অভ্যাগতদের নয়ন জুড়ায়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট, ছাতক, গোয়াইনঘাটসহ নানা এলাকার মাঝিদের নৌকা। সুরমা নদীতে ভারত সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের দিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ নৌকাবাইচে ১৬টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন কাজলসার ইউপি চেয়ারম্যান ও ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জুলকারনাইন লস্কর, লক্ষ্মীপ্রাসাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদ, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ চৌধুরী।
সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বাহাদুর জানান, জমিদার সাজিদ রাজা চৌধুরী এ প্রতিযোগিতা সূচনা করেছিলেন। তার বাপ-দাদা তা চালু রেখেছিলেন। ২০০০ সালে তারা নতুনভাবে নৌকাবাইচ শুরু করেন। মঞ্চে বসে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোমনি চৌধুরী, জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র খলিল উদ্দিন, জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহমদ, ওসি শামসুদ্দোহা ও ওসি মীর আব্দুন নাসেরসহ অর্ধলক্ষাধিক দর্শক।
দর্শকদের শোরচিৎকার, করতালি আর মাঝি-মাল্লাদের মুখে গান, হাতে বৈঠা মনের রং সব মিলিয়ে অন্য রকম এক উৎসব উপভোগ করেন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটবাসী। মাঝিরা যখন ‘হৈয়া হো হৈয়ো’ শব্দে গায়ের জোরে দাঁড় টানছিলেন, তখন তীরে নেচে গেয়ে তাদের উৎসাহ দেন মুগ্ধ দর্শকেরা। মুখে ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূর পঙ্খী নায়…’ করিমের বিখ্যাত এ গান আর বুকে তৃপ্তি নিয়ে সন্ধ্যা বেলায় ঘরে ফিরেন বিনোদনবঞ্চিত মানুষ।