লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বালাগঞ্জে ধান বিক্রি করে লাভবান কৃষকরা

23

শিপন আহমদ, ওসমানীনগর
বালাগঞ্জে উৎপাদিত ফসলের বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় কৃষকরা হতাশ ছিলেন। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা যেমন ধান বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন তেমনি তাদের মধ্যে ফসল উৎপাদনের আগ্রহ বেড়েছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সময়মতো তালিকা প্রকাশ না করায় কৃষকরা ভোগান্তির শিকার হন। অনেকই ধান বিক্রি করতে এসে তালিকায় নাম না থাকায় ফিরে যান। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে দুই ধাপে কৃষকের তালিকা প্রকাশ করা হলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়। এতে ৬০৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হলে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অ.দা.) কৃষিবিদ রমজান আলী জানিয়েছেন, যথাসময়েই কৃষিকার্ড অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২২৬ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ৩৭৭ জনসহ মোট ৬০৩ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের রাবেল আহমদ, মোবারকপুর গ্রামের আজমান খান, বোয়ালজুড় এলাকার সেলিম আহমদ, কলুমা গ্রামের আলকাছ আলী, ভাটপাড়া গালিমপুর গ্রামের দোলন দেবনাথ, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ইউপি সদস্য রনজিত বৈদ্য, বশির মিয়া ও সুজিবুর রহমানসহ ধান বিক্রেতা একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, তালিকায় নাম আসার পর তারা জনপ্রতি ১ টন করে ধান বিক্রি করেছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকাও উত্তোলন করেছেন।
বালাগঞ্জ বাজার বণিক সমতির সভাপতি মো. জুনেদ মিয়া বলেন, কৃষিকার্ডধারী কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা আনলে প্রকৃত কৃষকরাই উপকৃত হবেন এবং সরকারের এই উদ্যোগের শতভাগ সফলতা আসবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, পহেলা জুলাই কৃষকদের তালিকা হাতে পাই। দু’দফায় তালিকা পাওয়ার পর ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়।
উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিউটন চক্রবর্তী বলেন, কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী শতভাগ কৃষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সফলভাবে প্রায় ৫০৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ধান চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মো. নাজমুস সাকিব বলেন, বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে ধানের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশ না থাকায় ধান সংগ্রহে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১শ টন কম অর্জিত হয়েছে তবে আমি আশাবাদি তা পূরণ হয়ে যাবে।