বালাগঞ্জে সেতু-কালভার্ট দরপত্রের লটারি বাতিল না করায় ক্ষোভ

19

ওসমানীনগর প্রতিনিধি
বালাগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ দরপত্রের লটারি বাতিল না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। লটারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দরপত্রে অংশগ্রহণকারী এবং গ্রুপ-৪ ও গ্রুপ-১৪-এ প্রথম স্থান অধিকারী মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মো. সোহেল আহমদ নামক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে দাখিল করা পে-অর্ডারগুলো জাল হিসেবে উপস্থিত ঠিকাদারদের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক ঠিকাদাররা দরপত্রের লটারিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে তদন্ত করে মো. সোহেল আহমদ নামক প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্বচ্ছলতার সার্টিফিকেট ভুয়া বলে সত্যতা পাওয়া যায়।
এর আগে দরপত্রের লটারি বাতিল, সিএস পুনর্মূল্যায়নসহ পুনরায় লটারি করার দাবিতে মেসার্স লাল মিয়া তালুকদারের স্বত্বাধিকারী মো. লাল মিয়া তালুকদার, মেসার্স মো. নওশাদ মিয়া, মেসার্স জুনেদ ট্রেডার্স, মেসার্স মা ট্রেডার্স, মেসার্স এ আর এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রাফি এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ২৩ জুলাই জেলা প্রশাসকের নিকট পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু এরপরও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত সেই দরপত্র বাতিল না করে বহাল রেখেছেন বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ তুলেছেন।
ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, দরপত্রের লটারিতে অংশ নেয়া ১ম স্থান অধিকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলির কাগজপত্র সঠিক ছিল না এবং লটারি বিজয়ী মেসার্স ফুয়াদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শিপন মিয়া প্রবাসে অবস্থান করলেও তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছিল।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় গত ২৩ জুন ৩১টি সেতু-কালভার্ট নির্মাণের জন্য দরপত্র দাখিল করা হয়। দাখিল করা দরপত্রসমূহ যাচাই-বাছাই করে ১৬ জুলাই লটারি করা হয়। লটারি শেষে প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা পে-অর্ডারগুলো উপস্থিত ঠিকাদারদের কাছে জাল হিসেবে ধরা পড়ে। ওই সময়ে ঠিকাদাররা লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়টি অবহিত করেন। এছাড়া দরপত্রের অতিরিক্ত শর্তানুসারে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, আয়কর হালনাগাদ, ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ, ঠিকাদারী লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি হালনাগাদ, সিডিউল ব্যাংক থেকে আর্থিক স্বচ্ছলতার সার্টিফিকেট ও ওয়ার্ক প্লান দাখিল না করলে দরপত্র সরাসরি বাতিলের কথা রয়েছে। কিন্তু এতে পিপি আর ২০০৮-২০০৯ (২য় সংশোধন) এর অনেক শর্তাবলি লঙ্ঘন করা হয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পৃথী ভুষন দাস বলেন, দুটি গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী সোহেল আহমদ নামক প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্বচ্ছলতার সার্টিফেকেট তদন্তে ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে এবং দরপত্রের অনুষ্ঠিত লটারি বহাল রাখা হয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমূস সাকিব বলেন, উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরপত্রের লটারি বহালের সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা জালিয়াতি করেছে তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত হিসিবে চিহ্নিত করা হয়েছে।