কে হবে মাসুদ রানা: সতর্ক আয়োজকেরা

10

রিয়েলিটি শো ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মেনস হিরো–কে হবে মাসুদ রানা’র প্রাথমিক পর্বের কয়েকজন বিচারকের আচরণ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারকদের নিয়ে দর্শকেরা সমালোচনা করেছেন। বিচারকদের কাউকে ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে। বিচারকদের একজন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি নজরে এসেছে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আইয়ের। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানটি নিয়ে তারা বেশ সতর্ক হয়েছে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য এখনো এ দেশের দর্শক প্রস্তুত নয় বলেও জানায় তারা।

মাসখানেক আগে রিয়েলিটি শো ‘কে হবে মাসুদ রানা’ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাইপর্ব প্রচারিত হয়। অডিশনের কিছু ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও শেয়ার করে ফেসবুকে দর্শকেরা অভিযোগ এনেছেন, প্রতিযোগিতায় বিচারকেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। সেসব ভিডিওতে বিচারক হিসেবে দেখা গেছে পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, মোস্তফা কামাল রাজ, শাফায়েত মনসুর রানা, অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম ও শবনম ফারিয়াকে।

প্রতিযোগীদের কাছে মমর প্রশ্ন ছিল এমন, ‘এভাবে চেহারা দেখানোর জন্য খামোখা আসার প্রয়োজন নেই।’ ইফতেখার আহমেদ ফাহমী এক প্রতিযোগীকে বলেন, ‘যেখানে যে পরিমাণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থাকার কথা, ওখানে কি আছে ওগুলো। না একটা দুইটা কম আছে?’

দর্শকের অভিযোগ, বিচারকেরা এভাবে আচরণ করে প্রতিযোগীদের অপমান করছেন। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইয়ে। এর প্রকল্প অধিকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির বিপণন বিভাগের প্রধান ইবনে হাসান খান বলেন, ‘এই ধরনের আয়োজন পূর্বপরিকল্পিত। সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে এ আয়োজনের শুটিং করা হয়। অনুষ্ঠানে সৃজনশীল দল এসব প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিচারকেরা শুধু পারফর্ম করে গেছেন। দর্শকেরা যেভাবে আনন্দ পান, আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করেছি। দর্শক এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করব, তাঁরা যেন আমাদের শিল্পী ও বিচারকদের দোষী না করেন।’

আয়োজক প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়, সাধারণ দর্শকেরা যেসব প্রতিযোগীর অপমান ও অপদস্ত হওয়ার কথা বলছেন, সেসব প্রতিযোগীর কেউই কোনো অভিযোগ করেননি। যদি কোনো প্রতিযোগী অভিযোগ করতেন, তবেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেন। এদিকে বিচারকদের একজন শবনম ফারিয়াকে ফেসবুকে ও মোবাইলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক রাউন্ডের বিচারক আমি। যদি প্রতিযোগিতার কোনো দিক নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকে, সেটা প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে কেন?’

বিষয়টি নিয়ে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও অভিনেত্রী সারা যাকের বলেন, ‘প্রতিযোগীরা বাস্তব ভেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। দর্শকও কিন্তু সত্য ভেবে অনুষ্ঠান দেখতে বসেন। তাই আয়োজক ও বিচারকের ক্রেডিবিলিটি যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত আয়োজক ও বিচারক উভয়েরই।’

বিচারকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শবনম ফারিয়া বলেন, ‘যেসব ভিডিও সবাই দেখছেন, এগুলো এ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন সময়ের। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগীদের মানসিক অবস্থা, পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা দেখানো হয়েছে।’

কারও কারও মতে, ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ‘রোডিস’ অনুষ্ঠানের আঙ্গিকে এ অনুষ্ঠান তৈরির চেষ্টা করেছেন। শবনম ফারিয়ার মতে, ‘প্রতিযোগীরা অভিনয় পারেন কি না বা মাসুদ রানা হওয়ার জন্য ফিট কি না, তা–ই শুধু দেখা উচিত। এর বাইরে কোনো প্রসঙ্গ টেনে আনার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আমি কিন্তু প্রতিযোগীদের অসম্মান করিনি। আমি চাইনি, অভিনয়জগতের মানুষ হিসেবে আমার প্রতি কোনো ভুল ধারণা তৈরি হোক।’

ইফতেখার আহমেদ ফাহমী বলেন, ‘পুরো অনুষ্ঠানটি পূর্বপরিকল্পিত। সে অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি কারও সঙ্গেই এ ধরনের আচরণ করি না।’

প্রতিযোগীর সঙ্গে এমন আচরণ কতটা যৌক্তিক, জানতে চাইলে ইবনে হাসান খান বলেন, ‘আমরা লক্ষ করলাম, এ ধরনের পরিকল্পনার অনুষ্ঠান দেখতে এখনই বাংলাদেশের দর্শক প্রস্তুত হননি। আমাদেরও উচিত হয়নি। আমরা একটু বেশি আগাম ভেবে ফেলেছি। দর্শক ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আমরা প্রতিক্রিয়া পেয়ে অনেক সতর্ক হয়ে গেছি।’