যান চলাচলের জন্য ফের খুলে দেয়া হবে কিন ব্রিজ

7

স্টাফ রিপোর্টার
অপরিণামদর্শী সিদ্ধন্ত বাতিল করতে বাধ্য হলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। যান চলাচল বন্ধ করে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজকে পদচারী সেতুতে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েও তা থেকে সরে আসছেন। নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দাদের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে কিন ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে কিন ব্রিজ খুলে দেওয়ার দাবিতে নগরীর ২৫, ১৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন আরিফুল হক। মতবিনিময় সভায় আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে এমনটি জানান মেয়র।
মেয়র বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে পরামর্শ করে কিন ব্রিজে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই সেতু দিয়ে রিকশা-বাইসাইকেল ও ভ্যানগাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা করব।
তিনি বলেন, সেতুটি একেবারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এটি সংস্কার করতে প্রায় দুমাস সময় লাগবে। এই সময় সকলকে একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে।
কিন ব্রিজের পাশে আরেকটি সেতুর দাবি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আরেকটু সেতু বানানোর প্রয়োজন নেই। তবে কিন ব্রিজের পাশে নদীর দুই প্রান্তের সংযোগকারী একটি টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর প্রাথমিক কাজ শুরুও হয়েছে।
বৈঠকে আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ কিন ব্রিজে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় তাদের নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকোট রফিকুল হকের সভাপতিত্বে ও শিপল চৌধুরীর পরিচালনায় এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাখেন তাকবিরুল ইসলাম পিন্টু, ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজম খান, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুকসানা বেগম শাহনাজ, মিসবাহ উদ্দিন, হাবিব হোসেন, খন্দকার মহসিন কামরান, মাহমুদ আললী সাধু, সিরাজুল ইসলাস শিরু প্রমুখ।
এরআগে গত ১ সেপ্টেম্বর সংস্কারের জন্য কিন ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। ঐতিহ্য রক্ষায় সেতুটি দিয়ে যান চলাচল একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সেসময় জানিয়েছিলেন মেয়র।
১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে সুরমা নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তবু প্রতিদিন এই সেতুর উপর দিয়ে সুরমা নদীর এপাড়-ওপাড় হয় অসংখ্য যানবাহন। ফলে দেখা দিয়েছে ঝুঁকি। এমতাবস্থায় সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন।
প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৩ সালে সুরমা নদীর ওপর এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্রিজটির নির্মাণ শেষে ১৯৩৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর মাইকেল কিনের নামে এই সেতুর নামকরণ করা হয় কিন ব্রিজ। দৃষ্টিনন্দন লোহার গার্ডারের ওপর লাল রং দেওয়া ব্রিজটির অবকাঠামো দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে সিলেট শহর থেকে পাক সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঐতিহাসিক কিত^ ব্রিজে মাইন বিস্ফোরণ ঘটালে এর একাংশ ধসে যায়। পরে সরকার এটি পুনর্নির্মাণ করে।