সাকিবে কাটল আফগান বাধা

4

সাকিব আল হাসান দেখালেন কীভাবে ম্যাচ জেতাতে হয়। সহজ এক ম্যাচকে কঠিন বানিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দলের বাকি সব ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল মাইনফিল্ডে হাঁটতে বলা হয়েছে তাঁদের। এমন অবস্থায় ভয়ংকর চাপ সামলে রান তোলার দায়িত্ব শুধু বুঝে নেননি, রানের গতিটাও ধরে রেখেছিলেন সাকিব। অধিনায়কোচিত এক ইনিংসে দলকে শেষেরে বাঁধাটুকু পার করে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। অধিনায়কের অনবদ্য ৭০ রানে আফগানিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

পাঁচ বছর আগে আফগানিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ৮ রানে সেদিন ৩ উইকেট নিয়ে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন সাকিব। পাঁচ বছর ও ৪ ম্যাচ বিরতিতে আফগানদের আবার হারাতে সেই সাকিবকে জ্বলে উঠতে হলো। বোলিংয়ে কিপটে বোলিং করেছেন, আউট করেছেন ফর্মে থাকা নবীকে। কিন্তু ওতেও যথেষ্ট হয়নি, ব্যাট হাতেও সেরা ফর্মে দেখা দিতে হয়েছে তাঁকে।

৮ রানে লিটন দাস আউট হওয়ার নেমেছিলেন। ৬ বল বাকি থাকতে দলকে জিতিয়ে তবে ফিরেছেন। এর মাঝে খেলেছেন ৪৫ বল। ৮ চার ও ১ ছক্কায় দলের অর্ধেকের বেশি রান করতে হয়েছে সাকিবকে। নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই লিটনের পথ ধরতে দেখেছেন নাজমুল হোসেনকে। মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গী করে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়েছেন সাকিব। তবে অপর প্রান্তে মুশফিককে কখনো স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি। একবার জীবন পেয়েও ২৫ বলে ২৬ রান করে ফিরে গেছেন মুশফিক।

মাহমুদউল্লাহ নেমেও খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। গুগলিতে তাঁর দুর্বলতার কথা আবার জানিয়ে দিয়ে এলবিডব্লু হওয়ার আগে ৮ বলে ৬ রান করেছেন। দলের স্কোরবোর্ডে ১১ রান যোগ হওয়ার আগে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার মিছিলে যোগ দিয়েছেন সাব্বির (১) ও আফিফ (২)। মোসাদ্দেক নামার পরই যোগ্য এক সঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন সাকিব।

অপর প্রান্তে এমন যাওয়া আসার মিছিলের মাঝেও অনড় ছিলেন সাকিব। এর মাঝে দুবার ভাগ্যের সহযোগিতা পেয়েছেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পক্ষে যাওয়ায় রিভিউ নিয়েও তাঁকে আউট করতে পারেনি আফগানিস্তান, আরেকবার রিভিউ নেওয়ার কথা মাথায় আসেনি প্রতিপক্ষের। কিন্তু এসব কিছু তাঁর ইনিংসে দাগ ফেলতে পারবে না। চাপের মুখেও ইতিবাচক খেলেছেন। প্রতিপক্ষকে জেঁকে বসতে দেননি কখনো। শেষ তিন ওভারে ২৭ রান দরকার ছিল। সে পরিস্থিতিতেও রশিদ খানের ওভারে ১৮ রান তুলে নিয়েছেন কোনো ঝুঁকি না নিয়ে।

আফগানদের বিপক্ষে ভুলে যাওয়া জয়ের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে এমন ইনিংসেরই দরকার ছিল আজ।