বিছনাকান্দিতে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ৫

15

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি
গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকার একটি গ্রামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি ধরতে গিয়ে হামালার শিকার হয়েছে পুলিশ। পুলিশের উপর মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে প্রতিবন্ধকতা ও ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে হামলা করা হয়। হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ সদস্য ও আসামি আব্দুর রহমানও আহত হয়েছেন। আব্দুর রহমানকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্তের বাদেবাসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত দেড়টায় উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকা বাদেবাসা গ্রামে প্রতারণা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান করে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ। এএসআই সাইদুর রহমান ও এএসআই আব্দুল বারেকসহ একদল পুলিশ আব্দুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়। ওই সময় পুলিশ দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করলে আব্দুর রহমানের স্ত্রী গুলজান বেগম ঘরের দরজা খুলে পানির সঙ্গে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পুলিশের উপর নিক্ষেপ করেন। ওই সুযোগে আব্দুর রহমান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে ধরে হাতকড়া পরায়। ওই সময় আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী চিৎকার চেঁচামেচির পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। তারা ডাকাত বলেও চিৎকার করেন। এতে আত্মীয়স্বজনসহ আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশের উপর হামলা ও তাদের অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে এএসপি (সার্কেল) নজরুল ইসলাম, থানার ওসি আব্দুল আহাদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহত পুলিশের এএসআই বারেক, কনস্টেবল জাকারিয়া, আব্দুল হালিম ও রুহুল আমিন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে এএসপি নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশের অভিযানকালে আসামি ও তার স্ত্রী প্রথমে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গ্রেপ্তারের পর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার কারণে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। পরে তারা ভুল বুঝতে পারে। তিনি জানান, আসামি আব্দুর রহমানকে উদ্ধার না করলে তাকে বাঁচানো যেতোনা। ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে তার মাথায় আঘাত লেগেছে। আঘাতটি গুরুতর।এ ঘটনায় থানার এএসআই সাইদুর রহমান বাদি হয়ে আব্দুর রহমান, তার স্ত্রী গুলজান বেগম ও একই গ্রামের জিলু মিয়াসহ বেশ কয়েক জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি আব্দুল আহাদ।