পরিদর্শনকালে পর্যটন সচিব প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গুয়ার হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে চান

11

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় সুনাগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে দেশি-বিদেশি পর্যকটদের আবাসিক সমস্যা নিরসনে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে টেকেরঘাটে একটি অত্যাধুনিক রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হবে।
গত শনিবার দিনব্যাপী রামসার প্রকল্পভুক্ত টাঙ্গুয়ার হাওর, মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেঁষা টেকেরঘাট শহিদ সিরাজ (নিলাদ্রী) লেক, বারেকটিলা, সীমান্ত নদী জাদুকাটা ও দেশের বৃহৎ শিমুলবাগান এলাকা পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুহিবুল হক বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই টাঙ্গুয়ার হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্প গড়ে তোলার ব্যাপারে খুব বেশি আন্তরিক। চিরায়ত বাংলার অনিন্দ্য-রূপ ও সৌন্দর্যকে ভিত্তি করে পর্যটন খাতের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তাহিরপুরের পর্যটনবান্ধব এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি।
এখানকার মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা সবুজে সমৃদ্ধ সারিবদ্ধ পাহাড়, বারেকটিলাসহ ছোট ছোট টিলা, দেশের বৃহৎ শিমুলবাগান, রূপের নদী জাদুকাটা, সীমান্তঘেঁষা একের পর এক পাহাড়ি ছড়াগুলো, লালঘাট ঝরনা, রাজাই ঝরনা, শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানা ও অদ্বৈত প্রভুর জন্মধামসহ সমুদ্রসম গাছ ও মাছ, অতিথি পাখির অভয়াশ্রম, দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ জলাভূমি হিজল করচ সমৃদ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের পর্যটনশিল্পের অগ্রযাত্রাকে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, শুধু টেকেরঘাটে উন্নতমানের রেস্ট হাউসই নয়, পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে যা যা করণীয় সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পরিপূর্ণ প্রস্তাব দ্রুত প্রেরণের জন্য জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ ও হাওরাঞ্চলভিত্তিক পর্যটনশিল্প গড়ে তোলার জন্য আন্তরিক।
পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মো. মোখলেছুর রহমানর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুনতাসির হাসান উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে তাহিরপুরে কৃষক সমবেশে দেয়া বক্তব্যে টাঙ্গুয়ার হাওর, বারেকটিলা টিলা, জাদুকাটা নদীসহ তাহিরপুরের নানা দর্শনীয় স্থানকেন্দ্রিক ৭১’র স্মৃতিবিজড়িত মুক্তিযদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব সেক্টর টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পতিত ভূমিতে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।