পেঁয়াজ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই : বাণিজ্য সচিব

4

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। পাশাপাশি মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে টিসিবির ট্রাকসেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এসব কথা বলেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন।
তিনি বলেন, এতদিন রাজধানীতে ১৬টি ট্রাকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পেঁয়াজ বিক্রি করত। আজ মঙ্গলবার থেকে ৩৫টি ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি হবে।
বাণিজ্য সচিব বলেন, ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন ৬ হাজার টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল ফরিদপুর, পাবনাসহ সারাদেশে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩ লাখ টন পেঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে মজুদ আছে। যা দিয়ে আগামী ৫০ থেকে ৫৫ দিন দেশের পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো সম্ভব। আর এই সময়ের মধ্যে দেশে নতুন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। ফলে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, এসব মজুদ পেঁয়াজ যাতে স্বাভাবিকভাবে বাজারে সরবরাহ করা হয় এবং বাজারের কোনো পক্ষ যাতে কারসাজি করতে না পারে সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০টি তদারকি টিম গঠন করেছে। এই টিমগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। ফলে আশা করা যাচ্ছে, পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক থাকবে।
চলতি বছর বন্যার কারণে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে ভারতে পেঁয়াজের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে গত কিছুদিন ধরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা গত রোববার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের মত। তাতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন। যার বেশিরভাগটাই আমদানি হয় ভারত থেকে।
ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়।