শেয়ারবাজার পতন ঠেকাতে পারল না ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

5

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এই দুই খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে। এরপরও পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি মূল্য সূচক। তবে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে পতন হয়েছে সবকটি মূল্য সূচকের। অবশ্য এ বাজারটিতেও বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ব্যাংক খাতের ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর আর্থিক খাতের ১৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে চারটির।
ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়লেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি অন্য খাতগুলোর ওপর। এই দুই খাত বাদে বাকি খাতগুলোর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি পতন হয়েছে খাদ্য খাতে। এ খাতের ১৭টি কোম্পানির মধ্যে ১৬টিরই শেয়ার দাম কমেছে। আর বাকি একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
খাদ্য খাতের মতো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমেছে। ফলে দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে দরপতন হয় ২২১টির। আর ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের এমন পতনের পরও ডিএসইতে মূল্য সূচকের বড় পতন হয়নি। মূলত বেশিরভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা মিলেছে। ফলে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৯৪৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি কমেছে অপর দুটি সূচক। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকটি ১০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৭৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
মূল্য সূচকের এ পতনের মধ্যে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৯৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৮৪ কোটি ১২ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ২১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে মুন্নু স্টাফলার্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকার। ১১ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট পাওয়ার।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে-ন্যাশনাল টিউবস, ফরচুন সুজ, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্টাইল ক্রাফট, গ্রামীণফোন, মুন্নু সিরামিক এবং সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৩ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৭৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির।