তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ ৬ মাস

14

জাকির হোসেন, গোয়াইনঘাট
টানা ছয়মাস ধরে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। এই স্থলবন্দর দিয়ে ফের কবে নাগাদ কয়লা আমদানি চালু হবে এ বিষয়টি নিশ্চত করে বলতে পারছেন না কেউ। পরিবেশবাদী একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলার প্রেক্ষিতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ওই দেশের কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে একদিকে যেমন লোকসানের সম্মুখীন হয়ে পড়ছেন কয়লা ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। একই সাথে বেকারত্বের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন কয়লা-পাথর লোড-আনলোডের সাথে জড়িত সহ¯্রাধিক শ্রমিক।
স্থানীয় কয়লা আমদানিকারকরা জানান, সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত হচ্ছে কয়লা আমদানির ভরা মৌসুম বা উপযোগী সময়। এই সময়ের আমদানি করে দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির পাশাপাশি অধিক মুনাফার আশায় কয়লা মজুদ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে দাম বৃদ্ধি পাওযার পর একটু বেশি মুনাফা পেয়ে দেশের বিভিন্ন ইটভাটাগুলোতে তারা বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়ছেন।
জানা যায়, পাহাড়ের খনি থেকে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা উত্তোলনের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে ২০১৪ সালে ভারতের মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) আদালতে মামলা করে। মামলাটি আমলে নিয়ে ওই দেশের আদালত পরিবেশের ক্ষতির দিক বিবেচনা করে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এরপর সেদেশের রফতানিকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েকদফা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তোলিত কয়লা রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে আদালত। কিন্তু গত বছরের ১ জুন থেকে আবার বন্ধ হয়ে যায় কয়লা আমদানি। পরে ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানির অনুমতি দেয়া হলেও ১৫ জানুয়ারি থেকে আদালতের অপর একটি আদেশে পুনরায় তা বন্ধ হয়ে যায়। চার মাস বন্ধ থাকার পর গেল ১৭ মে ভারতীয় উচ্চ আদালত মেঘালয় রাজ্যের খনিগুলো থেকে শুধুমাত্র উত্তোলিত কয়লা ৩১ মে পর্যন্ত রফতানির অনুমতি দেয়। ওই আদেশের প্রেক্ষিতে ২২ মে থেকে শুধুমাত্র সুনামগঞ্জের বড়ছড়া ও বাগলী সীমান্ত দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হয়ে ৩১ মের পর ফের বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তামাবিলসহ সবকটি স্থলবন্ধর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসেন সেদু জানান, ভারতের পরিবেশবাদী সংগঠনের দায়ের করা মামলার কারণে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে পুনরায় কয়লা রফতানির অনুমতির জন্য ওই দেশের ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু কবে নাগাদ এই জটিলতার নিরসন হবে, বা আদৌ হবে কিনা এ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। কয়লা আমদানি ও রফতানি বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্রমশই লোকসানের দিকে ধাবিত হচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
তামাবিল স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর প্রধান জানান, এই স্থলবন্দর দিয়ে শুধু কয়লা আমদানি-রফতানি বাবদ গত অর্থ বছরে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে আড়াই কোটি টাকার বেশি। ভারতের পরিবেশ বাদীদের দায়ের করা মামলা জটিলতার কারণে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় চলতি অর্থ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকাংশে কম।