আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির

3

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ দণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আজ বুধবার দুপুরে সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি এ দাবি জানান।

এর আগে সমিতির একই মিলনায়তনে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সমিতির ব্যানার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন। প্রায় একই সময়ে একই বিষয় নিয়ে সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

দ্রুত বিচার শেষ করতে হবে
বেলা পৌনে দুইটার দিকে শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের নির্মম মর্মান্তিক ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। এ–ও দাবি করছি, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে বিচার শেষ করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি কার্যকরের জন্য।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমিন উদ্দিন বলেন, আবরারের বাবা বলেছেন, ‘সন্তান হত্যার বিচার চান ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে যেন রাজনীতি না হয়। আমি সবাইকে একই অনুরোধ করব, আসুন, অপরাধীদের আমরা ঘৃণা করি। অপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলি। এ নিয়ে আমরা কোনো ধরনের রাজনীতি করব না।’

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘জোর দাবি করছি, দ্রুততার সঙ্গে এই বিচার শেষ করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এরাও মেধাবী ছাত্র, তবে এরা মানুষ নয়। কোনো সাধারণ মানুষ, বিবেকসম্পন্ন মানুষ একজন মানুষকে পিটিয়ে এভাবে হত্যা করতে পারে না।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই, যেকোনো বিচারই প্রভাবমুক্তভাবে হোক। স্বচ্ছ ও সবচেয়ে নিরপেক্ষভাবে যেন বিচার হয়, সেটিই আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’ অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা বিচারটা চাই। চাই দ্রুততম সময়ে এই বিচার যেন নিশ্চিত করা হয়। অপরাধীদের সর্বোচ্চ দণ্ড যেন নিশ্চিত হয় এবং কার্যকর করা হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সমিতির সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাবেক সম্পাদক বশির আহমেদ ও মোমতাজ উদ্দিন আহমদ, আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া ও সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শামীম সরদার উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ছয়টি পদে আছেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। আর সম্পাদকসহ অপর আটটি পদে আছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন। ঢাকা, ০৯ অক্টোবর। ছবি: মহিউদ্দিন ফারুকশহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন। ঢাকা, ০৯ অক্টোবর। ছবি: মহিউদ্দিন ফারুকশিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির সংবাদ সম্মেলনের আগে একই মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এমন হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার মাঝেমধ্যে জঙ্গি ধরে এবং ক্রসফায়ারের নাটকও করে, এদের জঙ্গি কর্মকাণ্ড অনেক সময় প্রকাশ পায় না। কিন্তু আবরার হত্যাকারীরা হলো প্রকৃত জঙ্গি। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ১০ দফার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

মাহবুব উদ্দিন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবও। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মাহবুব উদ্দিন জানান, তাঁর সংবাদ সম্মেলনের পরে সমিতির সভাপতি এখানে সংবাদ সম্মেলন করবেন। ‘উনি (সভাপতি) উনার ওয়েতে বলবেন। এ নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। আলোচনা করে আমরা ঠিক করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি আবদুল বাতেন, সহসম্পাদক শরীফ ইউ আহমেদ, সদস্য সৈয়দা শাহীন আরা উপস্থিত ছিলেন।

আবরার হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুরে সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। ঢাকা, ০৯ অক্টোবর। ছবি: মহিউদ্দিন ফারুকআবরার হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুরে সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। ঢাকা, ০৯ অক্টোবর। ছবি: মহিউদ্দিন ফারুক

ফোরামের প্রতিবাদ সভা
আবরার হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুরে সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

ফোরামের আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সারা দেশে এই ছাত্রহত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সাল থেকে, সেভেন মার্ডারের মধ্য দিয়ে। পত্রিকায় এসেছে, সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৫১ জন মারা গেছেন। বিচারহীনতার কারণে আজকে এ হত্যাকাণ্ড চলছে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আইনজীবীরা কোনো অবস্থায় বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করি না। হত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, আজকে শপথ নিতে হবে। আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যেন কোনোমতেই তারা বিচারের বাইরে না থেকে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফোরামের সদস্যসচিব ফজলুর রহমান, মীর নাসির ও আবেদ রাজা প্রমুখ।