ওসমানীনগর পৌরসভা প্রতিশ্রুতির বেড়াজালে ২০ বছর ধরে আটকা

8

শিপন আহমদ, ওসমানীনগর
নানা প্রতিশ্রতি বেড়াজালে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আটকে আছে ওসমানীনগর পৌরসভা ঘোষণা। পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথ উপজেলায় পৌরসভা বাস্তবায়ন হলেও এ অঞ্চলের গণমানুষের এ স্বপ্নটি এখনও অধরাই থেকে যাচ্ছে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে (নিকার) সভায় বিশ্বনাথে পৌরসভার অনুমোদন করার খবর পাওয়ার পর বঞ্চিত ওসমানীনগরবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ওসমানীগরে দ্রুত পৌরসভার দাবি জানিয়ে আবারও সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে।
জানা যায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে ওসমানীনগরকে পৌরসভায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। পৌরসভা বাস্থবায়নের অংশ হিসেবে সীমানা নির্ধারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক রোডম্যাপ তৈরি প্রাথমিক নাগরিক সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করাসহ সব প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হলেও দীর্ঘ ২০ বছরেও পৌরসভার সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারছে না অত্র অঞ্চলের মানুষজন। ১৯৯৯ সালের ২২ জুলাই তৎকালীন স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী তাজপুরের মঙ্গলচন্ডী নিশিকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে ওসমানীনগর এলাকায় পৌরসভার ঘোষণা দেন। এরপর ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গোয়ালাবাজারের এক জনসভায় অতিসত্ত্বর ‘গোয়ালাবাজার পৌরসভা’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালের জুন মাসে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব স্বাক্ষরিত প্রেরিত পত্রের মাধ্যমেও পৌরসভা বাস্তবায়নের ব্যাপারে এলাকাবাসীকে আশ্বস্থ করা হয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে উপজেলার ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র গোলাবাজারকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার কয়েক শতাধিক লোকজন।
ওসমানীনগর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চয়ন পাল বলেন, গত সোমবার বিশ্বনাথকে পৌরসভার অনুমোদন দেয়া হলেও অত্র অঞ্চলের গনমানুষের দাবি ওসমানীনগরকে পৌরসভায় রুপান্তরের স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। সব ধরণের সুযোগ থাকা সত্বেও আমরা ওসমানীনগরবাসী আজও বঞ্চিত। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি গোয়ালাবাজার তাজপুরের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ওসমানীনগরকে পৌরসভায় রূপান্তর করা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, গত সোমবার নিকার সভায় পাশ্ববর্তী বিশ্বনাথ উপজেলায় পৌরসভা বাস্থাবায়ন হওয়ার খবরে ওসমানীনগরে পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। ওসমানীনগরে দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার বলেন, পৌরসভা বাস্তবায়নের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ আমাকে কিছু জানায়ওনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথে দ্রুত পৌরসভা বাস্থবায়নের জন্য ডিও লেটারসহ আনুষাঙ্গিক অনেক কাজই করে রেখেছিলাম। যার ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বনাথে পৌরসভা অনুমোদিত হয়েছে। স্থান নির্ধারনের জটিলতায় ওসমানীনগরে পৌরসভার অনুমোদনে একটু সময় লাগছে। এরপরও দ্রুত ওসমানীনগরে পৌরসভা বাস্তবায়নের জন্য আমি চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি আশাবাদি খুব শিগ্রই ওসমানীনগরবাসীও তাদের এই স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতে পাবেন।