যুক্তরাষ্ট্র নিউইর্য়কে জেল হত্যা দিবসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

10

কামরুজ্জামান (হেলাল) যুক্তরাষ্ট্র:

নিউইয়র্কে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্বের কমিটিই বহাল আছে।

তিনি সংশ্লিদের প্রতি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, বহু চেষ্টার পরও এর বাইরে কেন্দ্র থেকে কোন কিছুর অনমোদন আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সময় গত রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ। সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকি। মুনাজাতে জাতীয় চার নেতা সহ ১৫ই আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন সৈয়দ বসারত আলী, সামসুদ্দিন আজাদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, ডা. আব্দুল বাতেন, শরাফ সরকার, শাহীন আজমল, নুরুজ্জামান সর্দার, গনেশ কির্তনীয়া, স্বীকৃতি বড়–য়া, তরিকুল হায়দার চৌধুরী প্রমূখ। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫ সালের এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাদের হত্যা করে। তিনি বলেন, জাতীয় এ চার নেতা আপোষহীন আদর্শিক রাজনীতির উজ্জল নক্ষত্র। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের আদর্শ অনুকরণ-অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে জেল হত্যা দিবস পালনের সার্থকতা। সমাবেশে বক্তারা বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতীয় চার নেতার রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, সামাজিক ও কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বক্তারা বলেন, ১৫ আগস্ট, ৩রা নভেম্বর এবং ২১ শে আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা। বিচার বিভাগীয় কমিশনের গঠনের মাধ্যমে এসব হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাহলেই এসব জঘন্যতম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতা স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, বেসামরিক সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামানকে ১৯৭৫ সালের ৩ রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।