‘১০ সহস্রাধিক’ পদত্যাগের আল্টিমেটাম সিলেট বিএনপিতে ‘শত্রুর শত্রু বন্ধু’

11

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণায় একক আধিপত্য, ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন আর নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে তা সমাধানের দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে দিনে দিনে ফুঁসে ওঠছে বিএনপি ঘরানার রাজনীতি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নানা আশ্বাস বিক্ষুব্দ কর্মীদের থামিয়ে দিলেও এর প্রতিকার না হওয়ায় সময়ে সময়ে জমা হওয়া ক্ষোভ এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। যা এখন গণবিস্ফোরণের পথে। এ অবস্থায় সিলেট বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর দাবিতে নানা কর্মসূচিসহ আসছে আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে একসাথে অন্তত ১০ সহস্রাধিক নেতাকর্মীর গণপদত্যাগের আল্টিমেটাম। এর মধ্যে প্রথমে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের জেলা ও মহানগর কমিটি থেকে এমন পদত্যাগের ঘোষণা আসবে। পরবর্তীতে একে একে পদত্যাগ করবে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বিএনপিকে রক্ষার জন্যই তাদের এমন আল্টিমেটাম। দলটির একটি বিশেষ সূত্র কঠোর আল্টিমেটামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আবার এ আল্টিমেটামকে নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই একটি পক্ষের ‘নাটক’ বলেই অবিহিত করছে দলের আরেকটি পক্ষ। তবে সত্যি যদি এ আল্টিমেটাম আসে তাহলে সেটা অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলি আহমদ। তিনি বলেন-দলের সিদ্ধান্তটাই সবার মানা উচিত। তাছাড়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেও অনেক কিছুর সমাধান আসে। এখানে পদত্যাগ বা দল ত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়া ঠিক না। সিলেট বিএনপিতে গ্রæপিং রাজনীতি দীর্ঘদিনের। একসময়কায় গ্রæপিং রাজনীতিতে এখন নানা মেরুকরণ। এই মেরুকরণে অনেকেই হয়েছেন বিপরীত পথের পথিক আবার অনেকেই বিপরীত গ্রæপেরও বিশ্বস্ত হয়েছেন ‘শত্রæর শত্রæ বন্ধু’ এই সূত্রতে এসে। যা চলমান রয়েছে কয়েক বছর থেকে। সিলেট বিএনপির বর্তমান গ্রæপিং রাজনীতি দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে ঘিরে। দলের একটি বড় পদে আসীন হওয়ার পর তারেক রহমান কানেকশনে মুক্তাদির হয়ে ওঠেন সিলেট বিএনপির মাঝে বিশেষ এক ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ। যার ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ঘোষিত সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে তার আধিপত্য দেখানোর মাধ্যমে। যে কমিটিতে তুলে আনেন তার বলয়ের ‘আনকোরা’ কিছু মানুষ। কাজিরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি পদে নির্বাচনে হেরে পরবর্তীতে তার আশীর্বাদে হয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। যে কারণে ছাত্রদলের বড় একটি অংশ ওই কমিটিকে মেনে নিতে পারে নি। এমনকি এর প্রতিবাদে মিছিল-মিটিং আর বিক্ষোভ করে। এরপরও কোনো দল থেকে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় ওই দুই কমিটি থেকে ছাত্রদলের পদবীধারী ৯ নেতা পদত্যাগ করেন। যারা এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী হিসেবেই রয়েছেন। তাদের পদত্যাগের পর দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে একাধিকবার তাদেরকে ডেকে পাঠানো হয়। আশ্বাস দেয়া হয়। এমনকি বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিষয়টি দেখে দেবেন বলে আশ্বাস দেন এবং সে সময় অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন আশ্বাস পেয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় যোগ দেন ওই বিদ্রোহী নেতারা। তবে তাদের পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নেননি। সেই ঘটনার এখন প্রায় দেড় বছর পার হওয়ার পথে কিন্তু এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে সেই আশ্বাস। সেই ক্ষোভ-অভিমান এখনও জিইয়ে রেখেছে ‘বিদ্রোহী’ ছাত্রদল নেতারা। বর্তমানে সিলেট বিএনপিতে আলোচিত নাম খন্দকার মুক্তাদির। বি২০১৮ সালের ১১ আগস্ট সিটি নির্বাচন নির্বাচন পরবর্তী আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় মিছিল শেষেই অতর্কিত হামলায় ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজু নিহতের ঘটনায় জড়িত হিসেবে খন্দকার মুক্তাদির অনুসারীদের নাম আসে। এবং পরোক্ষভাবে এ হত্যাকান্ডে মদদ দেয়ার অভিযোগ ওঠে খন্দকার মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে। এদিকে ২ অক্টোবর ঘোষিত সিলেট জেলা বিএনপির ২৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি নিয়েও দলে রয়েছে অসন্তোষ। এই কমিটিতে নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত ও অভিযুক্তদের অনেকে ঠাঁই পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসে থাকা নেতারাও রয়েছে আহ্বায়ক কমিটিতে। কমিটির ২৫ জনের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। দলের দুঃসময়ে হাল ধরা অনেক নেতা আহ্বায়ক কমিটিতে ঠাঁই পাননি বলে তাদের অভিযোগ। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। সিলেট বিএনপির একাধিক নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আহবায়ক কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম ফারুকের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ। এসব অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় একাধিকবার জেলও খেটেছেন তিনি। ফারুক আগের কমিটির ৩৫ নম্বর সহসভাপতি ছিলেন। আহ্বায়ক কমিটিতে তার জায়গা হলেও অন্য সহসভাপতিদের ঠাঁই হয়নি। এছাড়া আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহ জামাল নুরুল হুদার বিরুদ্ধে নিজের মালিকানাধীন হোটেলের নামে অর্থ তুলে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আরেক সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতনের অভিযোগ। এই কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ও সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমকে। ১৩ উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র এই ২ উপজেলার পদধারী নেতাকে সদস্য করা নিয়েও নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে নেতাকর্মীদের মনে। এখানেও কর্তৃত্ব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে। এর আগে বিসংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট-১ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থিতার আলোচনায় ছিলেন কূটনীতিক প্রবীণ বিএনপি নেতা ও দলের ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির আহ্বায়ক ইনাম আহমেদ চৌধুরী। কিন্তু সব আলোচনা ছাপিয়ে পরে এই আসনে আবদুল মুক্তাদীরকে মনোনয়ন দেয় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। সেই ‘অভিমানে’ বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন ইনাম আহমেদ চৌধুরী। যদিও তিনি দলত্যাগের ব্যাপারে বিএনপির আদর্শবিচ্যুতির কথা জানিয়েছিলেন। তবে ঘটনা যাই হোক, তার দলত্যাগ সিলেট বিএনপির গ্রæপিং রাজনীতিতে সমালোচনার রশদ যোগায়। সেই সাথে বিতর্কিত হন মুক্তাদির। যার ফলশ্রুতিতে সিলেট বিএনপিতে দেখা দেয় নানা ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সর্বশেষ ১ নভেম্বর সিলেটে জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই ফের বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠে সিলেটের বিএনপি ঘরানার রাজনীতি। এ নিয়ে ওইদিন রাতেই দলের অভিভাবক হিসেবে নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে দেখা করেন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। এরপর মেয়র আরিফের বাসায় আসেন কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসাইন চৌধুরী। এসময় যুবদলের পদবঞ্চিত বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা ঘোষিত কমিটি বাতিল করা না হলে গণপদত্যাগের হুমকি দেন। ওই সভা থেকে ‘নেতৃবৃন্দের অগোচরে সিলেট যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে’ এমন অভিযোগ এনে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট বিএনপির ৪ প্রভাবশালী নেতা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসাইন চৌধুরী ও স্বেচ্চাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ নভেম্বর তাদের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবরে জমা দিয়ে তিনি তা গ্রহণ করেননি। এসময় মীর্জা ফখরুল অভিযোগের বিষয়টি দেখে দেবেন বলে তাদের কাছ থেকে সময় চেয়ে পদত্যাগ থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান। মহাসচিবের অনুরোধ মেনে নিয়ে কিছুদিন সময় দেন তারা। তবে কেন্দ্র থেকে দাবি মানা না হলে পদত্যাগ করবেনই; এমন সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। সব মিলিয়ে বিক্ষুব্দ হয়ে আছে সিলেটের বিএনপি ঘরানার রাজনীতি।
ক্ষুব্দ বিএনপি নেতারা জানান-সিলেট বিএনপি এখন সুযোগসন্ধানীদের দখলে। যাদেরকে কখনো মাঠের আন্দোলনে দেখা যায়নি তারা এখন নেতৃত্বের আসনে। মাছ ব্যবসায়ী হয় সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হয়েছেন নারী নির্যাতন মামলার আসামী। তিনি আবার দেশেও থাকেন না। এছাড়া তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতেও আছেন। তাছাড়া যুবদলের কমিটিতে যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। শিবির-জাসদ থেকে লোক ধার করে এনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে এর প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠে আন্দোলন করে যাচ্ছে দলের বড় একটি অংশ। বিভিন্ন কমিটিতে তৃণমূল নেতাদের মূল্যায়ন না করার কারণে দলের ভেতরে ক্ষোভ যেমন বাড়ছে তেমনি মাঠের বিএনপি ঠাই নিয়েছে অন্ধকারে। ফাঁকা হয়ে আছে সিলেটের রাজপথ। কিন্তু এত অভিযোগ থাকার পরও সিলেট বিএনপিকে বাঁচাতে কেন্দ্র থেকে কোনো পদক্ষেপ না। যে কারণের দলের শুদ্ধির জন্য আন্দোলনে যাচ্ছে সিলেট বিএনপি। তবু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের টনক না নড়লে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সহস্রাধিক নেতাকর্মীর একসাথে পদত্যাগের আল্টিমেটাম আসতে পারে। পদত্যাগের আল্টিমেটামের বিষয়টিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে বিএনপি নেতা আলী আহমদ বলেন-সব সমাধান দলের মাঝে আছে। আলোচনার সুযোগ আছে। আলোচনা করেই সমাধান করা সম্ভব। বিএনপি একটি বিশাল দল, এ দল থেকে কেউ চলে গেলে দলের ক্ষতি হবে না, ‘এমনকি আমি আলী আহমদও চলে গেলে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।’ তবে দলের স্বার্থে আলোচনা করা জরুরী বলে তিনি জানান। পদত্যাগের আল্টিমেটাম নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়া কি না; এমন প্রশ্নে আলী আহমদ বলেন-‘এটা হতেই পারে। নিজেকে দলের কাছে তুলে ধরতে কতজন কতকিছুই করে।’
তবে দলের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের আল্টিমেটাম এবং বর্তমান সিলেট বিএনপির ক্ষোভ ও হতাশার এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মতিউল বারী চৌধুরী খুর্শেদ বলেন-‘সিলেটে বর্তমানে যে কমিটিগুলো হচ্ছে বা হয়েছে তা বিভিন্ন কারণে বির্তকিত। সিলেট বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনগুলো যদি পুনর্ঘটিত না হয় এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের যদি মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে পদত্যাগ থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নাই। আমাদের আন্দোলনটা হচ্ছে দলকে রক্ষার আন্দোলন। কর্মীদের সেন্টিম্যান্ট দলের হাইকমান্ডকে বুঝতে হবে। তাও যদি না বুঝে তাহলে পদত্যাগ থেকে ফিরে আসার সুযোগ নেই। শহিদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করেই জীবন পার করে দেবো।’ তিনি বলেন-‘বি২০০০ সালে তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ৭/৮ স্পিøন্টারে আমার লিভার, কিডনি ক্ষতবিক্ষত। স্বয়ং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার তত্ত¡াবধানে আমার চিকিৎসা হয়েছে। দলের জন্য দিনরাত ঘুম নেই। এরকম আরো অনেকেই আছে। কিন্তু আমাদের মত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয় না। এজন্য আমরা ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছি। কারণ এতে করে নেত্রীর মুক্তি হবে না। এজন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ্য বিএনপির চাই, যাতে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন আরও বেগবান করা যায়।’
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট বিএনপি ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা জানান-আজকে পদত্যাগকারী হিসেবে যাদের নাম আসছে তাদেরকেই সিলেট বিএনপির মূল ভিত্তি বলা যায়। তাদের কেউই বিএনপিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়। আজকে আওয়ামী লীগ অনুপ্রবেশকারী তাড়াচ্ছে আর আমরা (বিএনপি) অনুপ্রবেশকারী দলে ভিড়াচ্ছি। আমাদের আন্দোলন হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে।” একটা প্রবাদ বাক্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন-‘আমার ভাড়াটিয়া এখন আমাকেই বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে; এই হচ্ছে সিলেট বিএনপির অবস্থা। আর যারা অভিমানে ক্ষোভে-অভিমানে পদত্যাগের কথা বলছে; তারা ওইসব ত্যাগী নেতাকর্মীদের ডেকেছে, যারা দলের জন্য ১৫/২০ টা মামলার আসামি হয়েছে, দলের জন্য দোকান-বাড়িঘর বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে তাদেরকে। তাদেরকে আমরা ছাত্রদলেও দিতে পারলাম না, যুবদলেও দিতে পারলাম না, জেলা বিএনপিতেও তারা নেই, মহানগর বিএনপিতেও তারা আসতে পারবে না। তাদের কাছে আমরা কতটা লজ্জিত, মানসিকভাবে তাদের কাছে কতোটুকু দুর্বল এটা বুঝা উচিৎ। আমি তাকে এনে মামলার আসামি করলাম, দলের জন্য তাদের অস্তিত্ব নাই, দলেও কোনো জায়গা নাই-পাওয়ারও আশা নাই। এই কর্মীদের কাছে আমরা মানুষ হিসেবে কতোটুকু দুর্বল, আর মানুষ না হলে তো কথাই নেই। এইসব বিবেচনা করে হয়তো পদত্যাগের একটা সিদ্ধান্ত হবে। তবে এটা পদ থেকে পদত্যাগ, দল থেকে নয়।’ এই আল্টিমেটাম বা পদত্যাগকে দলের অনেকেই তো ‘নাটক’ হিসেবে অবিহিত করছে; এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন-এসব যারা বলছে তারা আমার মনে হয় দলের আসল মানুষ নয়। তারা হাইব্রিড কেউ হবে সম্ভবত। সহজভাবে একটা কথাই বলি-‘আমার হাতে গড়া ঘর আমি কি ভাঙতে পারি?’