কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের কাত্যায়নী পূজা সম্পন্ন

5

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের ১৯ তম কাত্যায়ানী পূজা গঙ্গা স্নানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মাধবপুর চা বাগান সনাতনী ভক্তবৃন্দের আয়োজনে কার্তিক মাসব্যাপী ব্রত পালনসহ বাগানের বিভিন্ন মন্দিরে নাম কীর্তন শুরু হয়। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বিভিন্ন চা-বাগানের কয়েক হাজার ভক্তরা গঙ্গা স্নান ও প‚জার্চ্চনায় ধলাই নদীর তীরে হীরামতি এলাকায় সমবেত হন।
স্থানীয় চা-শ্রমিকরা জানান, ভগবত পুরাণ গ্রন্থের দশম স্কন্দের দ্বাবিংশ অধ্যায়ে কাত্যায়ানী ব্রতের উল্লেখ রয়েছে। এই কাহিনী অনুযায়ী, ব্রজের গোপীগণ কৃষ্ণকে পতিরূপে কামনা করে সমগ্র মাঘ মাস জুড়ে এই ব্রত করেন। এই একমাস কেবলমাত্র মশলাবিহীন খিচুড়ি খেতেন ও সকাল বেলা নদীতে স্নান করে নদীতীরে মাটির কাত্যায়ানী ম‚র্তি গড়ে চন্দন, দ্বীপ, ফল, পান, নবপত্র, মালা ও ধ‚প দিয়ে দেবীর প‚জা করা হয়। এরপরই নদীতে স্নান করে ভিজা কাপড়ে খোদিত কাত্যায়নীর মূর্তি পূজা করেন হাজার হাজার চা-শ্রমিক ভক্তরা বাড়ি ফিরে যান।
কাত্যায়নী পূজায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু, মাধবপুর চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রসেন গোপ, সাংবাদিক আসহাবুর ইসলাম শাওন, ইউপি সদস্য কৃষ্ণলাল দেশওয়ারা, দেওনারায়ন পাশি। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্যামদাস পাইনকা, সত্যনারায়ণ ভর, প্রতাপ ভর, ইন্দ্রজিৎ মুন্ডা, ইন্দ্রজিৎ নুনিয়া, দাদু কাহার, নিমাই নুনিয়া ও শিউনারায়ণ নুনিয়া।
উল্লেখ্য সকল ভক্তবৃন্দের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। ১৯ বছর যাবত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে অনুষ্ঠানের আরো ব্যাপকতা বাড়বে।