ট্রেন দুর্ঘটনা : ১৬ জন নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা

17

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মন্দবাগ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় মামলাটি করেন।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস জানান, রাতে মন্দবাগ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করেছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কসবা উপজেলাস্থ মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের লুপলাইনের মুখে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে ১০ এবং হাসপাতালে নেয়ার পর ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন ৭৪ জন।

নিহত ১৬ জনের মধ্যে ৯ জনই সিলেট বিভাগের। সিলেট বিভাগে নিহত ৯ জনের ৮ জন হবিগঞ্জ জেলার ও একজন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে সিলেট বিভাগের ৯ জন হলেন- হবিগঞ্জ শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (১২), আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটুলা গ্রামের সোহেল মিয়ার দুই বছরের মেয়ে আদিবা আক্তার সোহা (২), একই উপজেলার মদনমুরত গ্রামের আল-আমিন, চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের পশ্চিম তালুকদার বাড়ির ফটিক মিয়া তালুকদারের ছেলে রুবেল মিয়া তালুকদার (২৫), একই উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের আবুল হাসিম মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৩০), একই উপজেলার আহমদাবাদ গ্রামের পেয়ারা বেগম (৬৫), হবিগঞ্জের রিপন মিয়া (২৫) ও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল আশিদ্রোন ইউনিয়নের গাজীপুরে মৃত মুসলিম মিয়ার স্ত্রী ২ সন্তানের জননী জাহেদা বেগম (৪০)।

এদিকে এ দুর্ঘটনার জন্য তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাসের উদ্দিন ও সহকারী অপু-দেকে দায়ী করে বরখাস্ত করা হয়।

মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, আউটার ও হোম সিগন্যালে লালবাতি (সতর্ক সংকেত) দেয়া ছিল। কিন্তু তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।