জুড়ীতে গলাকাটা লাশ উদ্ধার, আটক ১

13

জুড়ী প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নিখিল বিশ্বাস (৫০) নামে এক ব্যক্তির গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের ৬ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত রিপন বিশ্বাসকে (২৫) গত শুক্রবার রাত ১টায় তার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা ও কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের নিখিল বিশ্বাসের পুত্র অর্জুন বিশ্বাস (২৫) একই গ্রামের নরেশ বিশ্বাসের পুত্র রিপন বিশ্বাসের সাথে দীর্ঘদিন থেকে চলাফেরা করতেন। রিপন প্রায় দিন অর্জুনকে বিভিন্ন স্থানে দিন মজুরের কাজে নিতেন। একসাথে চলার সুবাদে দু’জনই মদ পান করতেন। এ নিয়ে নিখিল বিশ্বাস তার ছেলের সাথে ঘুরাফেরা না করতে বলতেন। গত শুক্রবার বিকালে স্থানীয় কুচাই বাজারে এ নিয়ে রিপনের সাথে নিখিলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রিপনের গলা টিপে ধরেন নিখিল। এসময় উপস্থিত লোকজন তাদের ছাড়িয়ে দেন। এতে রাগান্বিত হয়ে রিপন বাড়ি চলে যায়। বাড়ি থেকে দা নিয়ে রাস্তায় ওৎপেতে থাকেন। সন্ধ্যার পরে নিখিল বাড়ি ফেরার সময় রিপন তাকে দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত আটটায় পাহাড়ি ছড়া থেকে নিখিলের লাশ উদ্ধার করে।
জুড়ী থানায় রিপন বিশ্বাস তার গলায় দাগ দেখিয়ে সাংবাদিকদেরকে বলেন, আমি প্রায় ৪ মাস থেকে অর্জুনের সাথে আমার চলাফেরা বন্ধ রয়েছে। এরপরও তার বাবা আমার গলা টিপে ধরায় আমি ক্ষুব্ধ হই। পরে আমি মদ পান করে তাকে দা দিয়ে কুপাই। তখন কী করেছি আমি নিজেই বলতে পারি না।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিখিলের মাথা, ঘাড় ও কপালে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে। ঘটনার পর পুলিশি অনুসন্ধানে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হত্যার অভিযুক্ত রিপনকে আটক করা হয়। নিখিলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং রিপনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।