পেঁয়াজ আসছে এবার ইউরোপের ৪ দেশ থেকে

82

পেঁয়াজের খোঁজে নতুন নতুন দেশে ধরনা দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের পর এবার ইউরোপের চার দেশ থেকে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ। এসব দেশ হলো নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ইউক্রেন ও স্লোভাকিয়া। এই চার দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন তাঁরা।

আজ সোমবার উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক কৃষিবিদ আজহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর নতুন নতুন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কমট্রেড ডাটাবেজ অনুসারে, পেঁয়াজ রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটি গত বছর ৬৭ কোটি ডলারের পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশ থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় এত দিন সেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এবার বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, দুটি প্রতিষ্ঠান ৭৮০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে দেশটি থেকে।

ইউরোপ থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে এক মাসের বেশি সময় লাগে। নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম ও বেলজিয়ামের এন্টওয়ার্প বন্দর থেকে কনটেইনারবাহী বড় জাহাজে এসব পেঁয়াজ প্রথমে আনা হবে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে। এরপর সেখান থেকে ছোট জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হবে। দেশ দুটি থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে সমুদ্রপথে ১৪ হাজার ৮৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এ হিসেবে আগামী মাসে ইউরোপের দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছাবে।

নেদারল্যান্ডস থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে শীর্ষ তালিকায় থাকা বিএসএম গ্রুপ। গ্রুপটির চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী আজ প্রথম আলোকে বলেন, পেঁয়াজের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ নেদারল্যান্ডস। তাদের পেঁয়াজের গুণগতমান সবচেয়ে ভালো। ভারত রপ্তানি বন্ধের পর বিশ্বের অনেক দেশে এখন চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে এক-দুটি দেশের চেয়ে যেখানে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে সেখান থেকেই আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল প্রথম আলোকে বলেন, নেদারল্যান্ডস ছাড়াও বেলজিয়াম থেকে এক হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। ইউরোপের দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ঘটনা নতুন বলে তিনি জানান।

উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্র ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেওয়া দেশের সংখ্যা নিয়মিতই বাড়ছে। ইউরোপের দেশগুলো ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে মিশর, চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া ইউরোপের দেশ স্লোভাকিয়া থেকে সামান্য পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

ভারত রপ্তানি বন্ধের আগে প্রতি বছর তিন-চারটি দেশ থেকে সামান্য পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হতো। এসব দেশের তালিকায় ছিল মিশর, তুরস্ক, পাকিস্তান ও চীন। বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি সবচেয়ে বেশি হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে বছর মোট ২৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকেই আমদানি হয়েছিল সাড়ে ১২ হাজার টন।