ওসমানী হাসপাতালে বিশ্ব এইডস দিবস উদযাপন । সিলেটে এইচআইভি আক্রান্ত ৯৫১, মারা গেছেন ৩৯৪ জন

8

স্টাফ রিপোর্টার
এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের সেবা প্রদানে সিওমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব মানুষকে সেবাপ্রদান করে আমাদের চিকিৎসকরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ পর্যন্ত ওসমানী হাসপাতালের সেবার আওতায় ৫৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত মা সুস্থ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। সিলেট বিভাগের এইচআইভি নিয়ে বেঁচে থাকা রোগীরা সারা বছর এই হাসপাতাল থেকে তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধসহ অন্যান্য সেবা নিয়ে থাকেন। বিশ^ এইডস দিবসের আলোচনাসভায় এ কথাগুলো বলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. ইউনুছুর রহমান।
গতকাল সোমবার বিশ^ এইডস দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দিনের শুরুতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি আযোজন করা হয়। হাসপাতালের পরিচালকের নেতৃত্বে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধতন কর্মকর্তা, অধ্যাপক, চিকিৎসক, সেবিকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারি ও সেবা গ্রহীতারা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
হাসপাতালের আশেপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হাসপাতালের গোল চত্বরে গিয়ে র‌্যালিটি শেষ হয়। র‌্যালি শেষে হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং পিএমটিসিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. মোতাহের হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে হাসপাতালের এইচআইভি কার্যক্রম নিয়ে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আবসিক চিকিৎসক ডা. আবু নঈম মোহাম্মদ।
আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এফএমএ মো. মুসা চৌধুরী, গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. নাসরিন আক্তার, নবজাতক বিভাগের ডা. মো. আব্দুল হাই মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকবৃন্দ।
সভায় আলোচকরা সিলেটের এইচআইভি কার্যক্রম গতিশীল করতে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় বক্তারা বলেন, যেহেতু অভিবাসী অধ্যূষিত এলাকা তাই এখানে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রমের আঙ্গিক একটু ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় তার বক্তব্যে বলেন, সেবাদানকারীদেরকে অবশ্যই বৈষম্যহীনভাবে সেবা প্রদান করতে হবে। বিশেষ করে আমাদের সমাজে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদেরকে সেবা আওতায় না আনতে পারলে আমরা কেউই নিরাপদ থাকতে পারব না।
অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল কালাম আযাদ, সেবা তত্বাবধায়ক, নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারি সমিতির সভাপতি, পিএলএইচআইভি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি।
উল্লেখ্য, সিলেটে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫১ জন এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৯৪ জন। বাকিদের মধ্যে ৫০১ জন সিলেট এমএজিওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে অবস্থিত এআরটি সেন্টার হতে নিয়মিত ঔষধ সেবন করে যাচ্ছেন। সরকারি অর্থায়ানে এ রোগীদের মধ্যে ঔষধ এবং অন্যান্য সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্ত মা হতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে এইচআইভির নতুন সংক্রমণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইউনিসেফের সহায়তায় এই দুটি হাপসাতালে পিএমটিসিটি প্রকল্প চলমান আছে।