সাগরপথে বিদেশ যাত্রায় নিখোঁজ বড়লেখার দুই যুবক

14

বড়লেখা প্রতিনিধি
অবৈধভাবে সাগরপথে মরক্কো থেকে স্পেন যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় মৌলভীবাজারের বড়লেখার জাকির হোসেন (২৮) ও জালাল উদ্দিন (২৯) নামের দুই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। ২৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মরক্কো থেকে স্পেন যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি হয়েছে। সেখানে ৪ জন অভিবাসী নিহত হয়েছেন, ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন আর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৫৮ জন। তবে গার্ডিয়ানের ওই খবরে কারো পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ওই ঘটনায় বড়লেখার দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন বলে তাদের পরিবার দাবি করেছে। নিখোঁজ জাকির বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের সুড়িকান্দি গ্রামের আফতাব আলীর ছেলে ও জালাল উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের পকুয়া গ্রামের জোয়াদ আলীর ছেলে।
তাদের পরিবার জানিয়েছে, ২৬ নভেম্বর দিবারাতে নৌকায় মরক্কো থেকে স্পেন যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে যে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে, সেটিতে জাকির ও জালাল ছিলেন। নৌকাডুবির পর থেকে জাকির ও জালালের কোনো খোঁজ মিলছে না। তারা দু’জন এখনো বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন সে ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য বলতে পারছেন না তারা। নিখোঁজ জাকিরের বাবা আফতাব আলী বলেন, ‘জাকির বেঁচে আছে না মারা গেছে আমরা কিছুই জানি না। স্পেনের হাসপাতালে আত্মীয়-স্বজনরা খোঁজ করেছেন। কিন্তু তাকে পাননি।’ জাকিরের চাচাতো ভাই সাইফুল আলম বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন জাকির নাকি মারা গেছে। কিন্তু আমরা সেখানকার হাসপাতালে খোঁজ করিয়েছি। তাকে পাওয়া যায়নি। আমাদের ধারণা, সে হয়তো বেঁচে আছে।’ এদিকে নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের পকুয়া গ্রামের নিখোঁজ জালাল উদ্দিনের ভাই জিলাল উদ্দিন বলেন, ‘জালাল ৩ বছর আগে সৌদিতে যান। তার আরও দুই ভাই সৌদিতে থাকেন। তাদের সঙ্গে থাকতেন জালাল। সেখান থেকে তিনি কয়েক মাস আগে স্পেন যাওয়ার উদ্দেশে মরক্কোতে যান। সেখান থেকে স্পেন যাওয়ার জন্য স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ২৬ নভেম্বর নৌকায় ওঠেন। সেই নৌকা ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছে বলে খবর পেয়েছি। এরপর আর জালালের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’ বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।’