দেশ এখন সন্ত্রাসের জনপদ : ফখরুল

11

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশ সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রতিদিনই নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতন চলছে। এখানে দুই মাসের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ বা যুবক, বাবা-মা কেউ নিরাপদ নয়। দেশে দুর্বলদের ওপর অত্যাচার চলছে। বাংলাদেশে যারা শারীরিকভাবে দুর্বল, তারা সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ।’
গতকাল রোববার দুপুরে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সকল নৃশংসতাই যেন বিচ্ছিন্ন ঘটনা! সাগর-রুনি, বিশ্বজিৎ, নুসরাত, তনু, মীম, আবরার, সুমি’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রুনি আমার দূর-সম্পর্কের আত্মীয়। আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের ধরা হবে। কিন্তু আট বছর হলেও তাদের হত্যার কোনো সুরাহা হয়নি।’
সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলনের শুরুতে কোনো বিভক্তি ছিল না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব সাংবাদিক এক হয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল। খুব জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু একদিন আমরা দেখলাম সেখানে বিভক্তি হয়ে গেল। কিছু লোক আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াল, আরেক দল কিছু দিন চিৎকার করে থেমে গেল।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অপরাধ তারা সমাজকে বিভক্ত করে ফেলেছে। তারা সমাজকে দূষিত করেছে। চতুর্দিকে তাকিয়ে দেখুন, সবখানে বিভক্তি। এটি এত বেশি যে কেউ ভয়ে, ত্রাসে কথা বলতে চায় না। একদিকে আওয়ামী লীগ করতে হবে, না হলে অত্যাচার।’
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত শনিবার তিনি (তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ) বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান নাকি টেন্ডার দিয়ে রাজনীতিবিদদের নিয়ে এসেছিলেন। তারপর বিভিন্নভাবে তাদের মন্ত্রণালয় দিয়েছেন। এটা আমাকে কিছুটা আঘাত করলো বলে সকালে তথ্যমন্ত্রীর প্রোফাইল বের করলাম। দেখলাম তার জন্ম ১৯৭৩ সালে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার জন্মই হয়নি। জিয়াউর রহমান কী ছিলেন, কীভাবে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মঞ্চ গড়েছিলেন, এটা তার জানার কথা না।’
সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকদের আসা লাশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মন্ত্রী বলেছেন, ৫৫টি লাশ আসা এটা সাধারণ ব্যাপার। বিএনপি ২০০১ সালে সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানোর প্রস্তাব পেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হননি। আমরা চাই, নারীরা কাজ করুক, কিন্তু মর্যাদাহানি করে নয়।’
আয়োজক সংগঠনের আহŸায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাবির সাবেক উপার্চায এমাজউদ্দীন আহমদ ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।