সিলেটে আ.লীগের সম্মেলন : উৎসবে কর্মীরা, নেতারা উৎকণ্ঠায়

63

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
দীর্ঘ ১৪ বছর পর আগামী বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মীরা। পদ প্রত্যাশি নেতারাও সেই উৎসবে শামিল হলেও পছন্দের পদ পাওয়া না পাওয়ার দোলাচলে তারা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

শুধু পদ প্রত্যাশি নেতারাই নয়, তাদের অনুসারীদের মাঝেও একটাই প্রশ্ন; আগামী দিনগুলোতে কে হচ্ছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি? নিজের পছন্দের কেউ হলেই তো নেতা হওয়ার পথ সুপ্রসন্ন। ফলে এখানেও উৎকণ্ঠা। তবে সাধারণ কর্মীরা একেবারেই নির্ভার।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আর মাত্র এক দিন বাকি। এরইমধ্যে নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফ্যাস্টুন ও তোরণে তোরণে নতুন সাজে সেজেছে সিলেট নগরী। জেলার ১৩টি ও মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হওয়ার পর থেকেই নেতা-কর্মীরা পুরোদমে এ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। পাশাপাশি সম্মেলন স্থল সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রসা মাঠকে ঘিরেও শুরু হয়েছে সব প্রস্তুতি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। এর আগে দেশের সব জেলা, উপজেলা, মহানগর, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা ছিল কেন্দ্র থেকে। এমন নির্দেশনার কারণে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভার কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। যদিও সব উপজেলা সম্মেলন শেষ করতে পারেনি জেলা আওয়ামী লীগ।

অপরদিকে, সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে করা হয় ওয়ার্ডভিত্তিক সম্মেলন।

গত ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলন বাধা-বিপত্তি নিয়েই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়মী লীগের কমিটিগুলো গঠিত হয়। আর এবারই প্রথম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদকের পদে যারা রয়েছেন তারা যেমন নতুন, তেমনি সম্পাদক পদপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। যা নিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নেতা-কর্মীদের মতে, ওয়ার্ড কমিটিতে যেভাবে নতুন ও যুবকদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেভাবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগেও নতুন এবং যুবকদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে তরুণরা যেমন রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হবে তেমন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে। যারমধ্য দিয়ে দলের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতা তৈরি হবে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ২২ নং ওয়ার্ডের কর্মী সুজেল আহমদ বলেন, আমরা যে নেতার অনুসরণ করি, তিনি যদি পদ পদবী না পান তাহলে আমাদের কিভাবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিবেন। তাই নেতা পদ পাবেন কিনা তা নিয়ে আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীরা উৎকণ্ঠায় আছি।

সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক কামরুল আই রাসেল বলেন- আওয়ামী লীগ একটি বিশাল সংগঠন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দারিদ্রমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে দলীয় নেতৃত্বেও আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব দেশ ও মানুষকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবে।
এদিকে বর্তমানে সিলেট নগরজুড়ে চলছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রসা মাঠে বেলা ১১টায় মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলন শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

ত্রি-বার্ষিক এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন আনন্দময় এবং উৎসবমুখর করে তুলতে নানা আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য ৬টি উপ-কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী। সবার প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর সম্মেলনের আশা ব্যক্ত করেন এ দুই নেতা।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরী বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ চলছে। তবে পদ পদবী পাওয়া নিয়েও নেতা ও সমর্থকদের মাঝে টানটান উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠায় পার হচ্ছে বর্তমান সময়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ দিয়ে আমার রাজনীতি শুরু। দীর্ঘকাল ধরে দলের জন্য কাজ করছি। নেত্রী (শেখ হাসিনা) চাইলে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি। নেত্রী যাকেই মনোনীত করবেন তাকেই সাদরে গ্রহণ করবো।’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন কমিটিতে সভাপতি হওয়ার প্রধানতম দাবিদার আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, নেতাকর্মীদের আশা সম্মেলনে মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে সিলেট আওয়ামী লীগ। গতিশীল হবে দলীয় কার্যক্রম। কমিটিতে স্থান পাবেন ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সভাপতি প্রার্থী। তবে সবকিছু নির্ভর করে নেত্রীর ওপর। তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা মেনে চলবো। যদি কোন পদ নাই পাই তাহলেও নেত্রী যাকে মনোনীত করবেন তাকেই হাসি মুখে মেনে নিব।’

এদিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সম্মেলনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। জেলা সম্মেলনের আগেই উপজেলা গুলোতে কমিটি দেওয়া হয়েছে। আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়েছে।

তিনি বলেন- ‘আমি দীঘদিনে ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। বিগত দিনে নেত্রী যেভাবে বলছেন তা মেনে নিয়েছি। এখনও সিলেট জেলা ও মহানগরে নেত্রী যাকেই মনোনীত করবেন তাকেই সাদরে গ্রহণ করবো।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন কামরান বলেন, নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে। সিলেট মহানগর সম্মেলনও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হবে বলে আশা করছি।