যুক্তরাষ্ট্র পেনসিলভেনিয়ার প্রাইমারী ইলেকশনে অডিটর জেনারেল প্রার্থী বাংলাদেশী আমেরিকান ড. নীনার পাশে শীর্ষ ডেমক্রেটরা

33

কামরুজ্জামান (হেলাল) যুক্তরাষ্ট্র:

পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্য অডিটর জেনারেল পদে বাংলাদেশী আমেরিকান ড. নীনা আহমেদকে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিলো এই রাজ্যের শক্তিশালী একটি মোর্চা। এই অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের সিনিয়র সদস্য ছাড়াও নীতি-নির্দ্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারিদের এই মোর্চার নাম হচ্ছে ‘সাউথ ওয়েস্ট কোয়ালিশন অব ইলেক্টেড অফিসিয়ালস’। ২ ডিসেম্বর সোমবার ফিলাডেলফিয়ার একটি মিলনায়তনে ড. নীনার সমর্থনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মোর্চার পক্ষে স্টেট সিনেটর এন্থনি উইলিয়ামস, সিনেট ডেমক্রেটিক হুইপ স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ জর্দান হারিস, ডেমক্রেটিক হুইপ স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ জোয়ানা ম্যাকক্লিনটন ( হাউস ডেমক্রেটিক ককাস চেয়ার ), কাউন্সিলউম্যান কেনিয়াটা জনসন (চেয়ার অব ট্রান্সপোর্টেশন এন্ড পাবলিক ইউটিলিটিজ ) বক্তব্য দেন। সিনেটর এন্থনি উইলিয়ামস বলেন, আমরা ড: নীনা আহমেদকে অনেক বছর ধরে মার্কিন পলিটিক্স এর মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। আমরা তার জ্ঞান, সততা, কর্মদক্ষতা, মানুষের জন্য ভালোবাসা ও স্বাধীনচেতা তেজোদ্যীপ্ত নেতৃত্ব দেখে অভিভূত হয়েছি। আমরা সাধারণত কাউকে প্রাইমারীতে শক্ত সমর্থন দেইনা। কিন্তু ড. নীনা আহমেদকে শুধু মুখে মুখে ই সমর্থন দিচ্ছিনা আমরা তার জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাব। রিপ্রেজেনটেটিভ জর্দান হারিস বলেন, আজ এই তীব্র শীতের মধ্যেও আমাদের ডাকে এ বিশাল কর্মীর উপস্থিতি প্রমান করে যে, আমরা নীনা আহমেদের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কতটা আগ্রহী।

রিপ্রেজেনটেটিভ জোয়ানা ম্যাকক্লিনটন বলেন, ড. নিনা বাংলাদেশের মেয়ে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন। সেই সময়ে মানুষের দু:খ, দুর্দশা নিজের চোখে দেখেছেন। তাই আমেরিকার গরীব মানুষের অধিকারের জন্য তিনি নিজের আয়েশের জীবন ছেড়ে সংগ্রামে নেমেছেন। কাউন্সিলউম্যান কেনিয়াটা জনসন বলেন, ড. নিনা আহমেদ ফিলাডেলফিয়া সিটির বিভিন্ন কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। মেয়রের এশিয়ান কমিটির প্রধান ছিলেন। জাতীয় নারী সংগঠনের ফিলাডেলফিয়ার চীফ ছিলেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান কাউন্সিলের সব চেয়ে ব্যস্ত উপদেষ্টা ছিলেন এবং ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র ছিলেন। তারা উল্লেখ করেন, গত বছর পেনসিলভেনিয়ার মত বিরাট রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে মাত্র ১১ সপ্তাহ প্রচারণা চালিয়ে ৫ জনের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তিনি প্রমান করেছেন এই রাজ্যে তিনি সর্বস্তরের মানুষের নেতৃত্ব দেবার মত সামর্থ রাখেন। বার বার করতালির মাধ্যমে তাদের বক্তব্যকে সবাই স্বাগত জানায়। ড. নীনা তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, অডিটর জেনারেল এর দায়িত্ব অনেক বড়। আপনাদের ট্যাক্স ডলার কোথায় খরচ হয় সেটা দেখার দায়িত্ব অডিটর জেনারেলের। সেটা স্বাধীন এবং কারোর কাছে জবাবদিহি করতে হয়না। আজ আমেরিকাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে পয়সা না দিয়ে অনেক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসৎ আইন প্রণেতা ও ব্যাবসায়ীরা লুটপাট করছে। ড. নিনা উল্লেখ করেন, আপনাদের সবাইকে নিয়ে তাদের সাথে আমার যুদ্ধ হবে। এরপর ড. নীনা সমাবেশে উপস্থিত অধ্যাপক ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদকে তার নিজের মেন্টর এবং ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসাবে পরিচয় করিয়ে বলেন, ‘উনি দুর্দিনে শুধু অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধই করেননি, উনার বাবাও একজন ডাক্তার, যিনি মানবতার সেবা করার জন্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হন। ফ্লোর নিয়ে ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ড. নীনাকে আমি ২৬ বছর থেকে জানি। তিনি নামের জন্য বা সম্পত্তির জন্য রাজনীতিতে আসেননি। তিনি একজন বিজ্ঞানী হয়ে মূল্যবান রিসার্চে ব্যস্ত ছিলেন। এমনি অবস্থায় যখন দেখলনে এদেশের অনেক মানুষ কোন গরিব দেশের মানুষের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ভালো নেই। তাই তিনি তাদের জীবনকে উন্নতির জন্য রাজনীতিতে এসেছেন এবং ছোট কমিউনিটির সদস্য হওয়ার পরও নিজের দক্ষতা এবং একান্ত প্রচেষ্টায় আজ আমেরিকার রাজনীতিতে সম্মানের সাথে দাঁড়াতে পেরেছেন। ড. নীনার স্বামী ও তার সর্বসসময়ের বন্ধু নসরুল্লাহ এবং ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়া থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির লিডার মোঃ হারিস এবং মোঃ এনামও ছিলেন আমেরিকানদের এ সমাবেশে। ড. নীনা তার পূর্বের নির্বাচনে সকল রাজ্যের বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অকুন্ঠ সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। উল্লেখ্য, ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে ড. নীনার বিরুদ্ধে রয়েছেন দু’জন। তারা হলেন ক্রিস্টিনা হার্টম্যান এবং মাইকেল ল্যাম্ব। এখন পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টির কেউ প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেননি।