উন্নয়নের ভোগান্তি নগরবাসীকে সিসিকের ‘বাঁশ’

4

সেলিম হাসান কাওছার
মহানগর সিলেট এখন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিজিটাল নগর। দীর্ঘদিন থেকে সিলেট নগরে উন্নয়ন কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম এলাকায় চলছে এসব উন্নয়ন কাজ। এতে বেড়েছে মানুষের ভোগান্তিও। গতকাল রোববার নগরীতে উন্নয়ন কাজের জন্য নগরীর বারুতখানা পয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার এবং নাইয়রপুর পয়েন্ট সংলগ্ন রাস্তায় সাময়িক সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ সময় জনসাধারণের চলাচলের জন্য বাস্তায় বসানো হয় বাঁশের সাঁকো। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন ‘নগরবাসীকে বাঁশ দিয়েছে সিসিক।’ অবশ্য কিছু সময় পর বাস সরিয়ে স্টিলের পাত বসিয়ে করে যাতায়েতের ব্যবস্থা করা হয়।
নগরীর স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কাজের ফলে বিবিভিন্ন কর্মব্যস্ত সড়কে ভোগান্তির মাত্রা চরম সীমায় পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন থেকে সড়কগুলোতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। যে কারণে ছোট-বড় সব সড়কেই দিনভর লেগে থাকে যানজট। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। গত শনিবার দিবাগত রাত ও গতকাল রোববার সকাল থেকে নগরীর বারুতখানা পয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার পয়েন্ট পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নগরীর নাইয়রপুলস্থ ফরচুন গার্ডেন ও বারুতখানা পয়েন্ট সংলগ্ন উনদাল রেস্টুরেন্টের সামনে রাস্তা খুঁড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় পথচারী চলাচলেও বিঘœ ঘটছে। কালভার্টের উপর বসানো হয় বাঁশের সাঁকো।
এদিকে হঠাৎ করেই কোনো নির্দেশনা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় নগরবাসীকে ব্যবহার করতে হচ্ছে বিকল্প সড়ক। ফলে এই সড়কের সাথে সংযুক্ত হাওয়া পাড়া, তাঁতীপাড়া ও বারুতখানা থেকে লালবাজার যাওয়ার সরু রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে যানবাহন চলাচলে যেমন অসুবিধা হচ্ছে তেমনি ওই এলাকার ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন-গত শনিবার রাতে হঠাৎ করেই মেয়র সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি নিয়ে এসে কালভার্টটি ভেঙে দেন। তখন ব্যবসায়ীরা কবে নাগাদ রাস্তা ঠিক হবে এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। এ রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তাদের ব্যবসায় লোকসান হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তীব্র যানজট থেকে মুক্তি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে খুব দ্রæত কাজ শেষ সড়কে যানচলাচলের উপযোগী করে দিতে ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন। সিারাজুল ইসলাম নামে মোটরসাইকেল আরোহী বলেন,একটি রাস্তার কাজ শেষ না করে আরেকটি খোঁড়া হয়েছে।
পথচারী মইনুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি বন্ধ করে পথচারীদের যাতায়াতের জন্য প্রথমে বাঁশের সাঁকো বসানো হয়, পরে এর পাশে স্টিলের পাত দেয়া হয়েছে। বাঁশে সাঁকোয় ও স্টিলের পাতে উঠলে কাঁপে। এতে ভয় লাগে।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানান, দুটি কালভার্ট ভাঙা হয়েছে। নতুন করে নির্মাণ করতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। রাস্তাটি ছোট হওয়ার ফলে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।