সৌদি আরব থেকে ১৮ দিনে দেশে ফিরেছে ১৮৩৪ শ্রমিক

3

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রফতানি হয় সৌদি আরবে। তবে দেশটি থেকে প্রতিদিনই শ্রমিক ফিরছে। এদের মধ্যে কেউ ফিরছেন কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায়, কেউবা অবৈধভাবে গিয়ে ধরা পড়ে, কেউ আবার ফিরছেন দালালের খপ্পরে পড়ে কাজের গড়মিলের জন্য। কিন্তু এদের পাশাপাশি বৈধভাবে কাজে যুক্ত থেকে ফিরে আসাদের সংখ্যাও কম নয়। নতুন বছরের গেলো ১৮ দিনে সৌদি আরব পুলিশি অভিযান চালিয়ে ১৮৩৪ জন শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে সর্বশেষ শনিবার রাতে ফিরেছে ২২৪ জন শ্রমিক।
মোটা অংকের টাকা খরচ করে ভাগ্য বদলের অশায় স্বপ্নের দেশ সৌদি আরবে কাজের উদ্দেশে গেলেও এখন সেসব শ্রমিক ফিরছেন শূন্য হাতে। বেসকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, গত শনিবার রাত ১১ টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে ১০৮ কর্মী দেশে ফেরেন। এর আগে ওদিন দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৮ বিমান যোগে জেদ্দা থেকে ফেরেন আরও ১১৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৮ দিনে এক হাজার ৮৩৪ জন বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফিরলেন। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় বরাবরের মতো গতকালও ফেরত আসাদের ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের অভিযোগ তাদের কাজের মেয়াদ শেষ হলেও ফেরত পাঠাচ্ছে আবার মেয়াদ থাকলেও পাঠাচ্ছে। বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার শামিম (৩০) জানান, মাত্র তিন মাস আগে তিন লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন ড্রাইভিং ভিসা নিয়ে। সেখানে দুই মাস কাজ করলেও কোনো বেতন পাননি তিনি। পরে মালিককে (কফিল) বারবার অনুরোধ করলে তিনি অন্য জায়গায় কাজের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু সেখানে কর্মরত অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তিনি মালিককে ফোন দিলেও তিনি কোনো দায়িত্ব নেননি তিনি।
নরসিংন্দীর মো. মিন্টু মিয়া চার লাখ টাকা খরচ করে পাঁচ মাস আগে ক্লিনারের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি আরব। কিন্তু সেখানে কাজ শেষে রুমে ফেরার সময় পুলিশ ধরে তাকে। আকামা দেখানোর পরেও মিন্টুকে দেশে ফিরতে হয়। পটুয়াখালীর শাহিন সরদার, ময়মনসিংহের মো. আশরাফুল, মো. সুমন ও শফিক,নরসিংন্দীর সালাউদ্দিন, মানিকগঞ্জের আমিনুল, মুন্সিগঞ্জের মামুন কবিরসহ আরও অনেকেই ফিরেছেন। আর এরা ফিরেছেন মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে।
ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান এ প্রসঙ্গে জানান, দেশে ফেরত আসা কর্মীরা বরাবরের মতোই অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রত্যেককে নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন তারা। অনেকে বেতন পাননি। অনেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই এখন ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায়।
শরিফুল হাসান বলেন, ‘২০১৯ সনে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ দিনে এক হাজার ৮৩৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরব থেকে ফিরলেন। ফেরত আসাদের বর্ণনা প্রায় একইরকম। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন এমন লোকও আছেন এদের মধ্যে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যখন বিদেশে যান তখন পরিবার স্বজন সবাই খুশি হন। কিন্তু ফেরত আসা মানুষগুলোর পাশে কেউ থাকেন না। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও তাদের নানা কটু কথা বলেন। অথচ এই সময় তাদের পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। ফেরত আসা প্রবাসীদের আমরা শুধু বিমানবন্দরে সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না। তারা যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য কাউন্সিলিং, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিকভাবেও পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শরিফুল হাসান বলেন, ‘সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। পাশাপাশি এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস এবং সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।’