যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হচ্ছেন বিয়ানীবাজারের অধিবাসীরা

9

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় হামলার শিকার হচ্ছেন বিয়ানীবাজার অধিবাসীরা। তারা সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এরকম ৩টি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালি কমিউনিটিতে উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সেখানকার বাঙালি অধ্যুষিত ওজনপার্কে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিয়ানীবাজারের চারাবই গ্রামের শাহাবুদ্দিন, কসবা গ্রামের আব্দুল আলিম ও মাথিউরা গ্রামের লিয়াকত আলী কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। তাদের সবার উপর হামলা হয়েছে ছিনতাই সংক্রান্ত কারণে। হামলাকারীরা রাস্তা আটকে শুরুতেই আক্রমণ করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে। এরপর সাথে থাকা মোবাইল ফোন, ডলার ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় তারা। হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ ফেব্রæয়ারি স্থানীয় সময় আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টায় ৭৬ স্ট্রিট দিয়ে যাচ্ছিলেন শাহাবুদ্দিন (৫৫)। এ সময় এক কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী শাহাবুদ্দিনের পথ আটকে উপর্যুপরি নাকে মুখে কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে। এরপর সাথে থাকা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। ১১ ফেব্রæয়ারি ভোর ৪টার দিকে ওজনপার্কের বাসা থেকে বের হয়ে কাজে যাচ্ছিলেন আব্দুল আলিম। বাসার একটু দূরত্বে পৌছামাত্র একইরকমভাবে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা তার নাকে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে। এরপর সাথে থাকা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওজনপার্কে একই ধরণের হামলার শিকার হয়েছেন মাথিউরার লিয়াকত আলী। বাফেলোতে হামলার শিকার হন বৈরাগীবাজার এলাকার রেজাউল করিম। তার উপরও কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা হামলা করে কয়েকটি পিজা ছিনিয়ে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত খাসা গ্রামের এবিএস সিদ্দিক অল্পের জন্য কৃষ্ণাঙ্গদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করেন। গত প্রায় ২ বছর আগে একটি শপিং মলে কৃষ্ণাঙ্গদের হামলায় নিহত হন কসবা গ্রামের আকরাম হোসেন বুলবুল। গত ১৩ ফেব্রæয়ারি নিউইয়র্কে ট্রেনে হামলার শিকার হন খাসা বিলবাড়ি এলাকার রাবেয়া বেগম। তাকে উপূর্যপরি ছুরিকাঘাত করে সন্ত্রাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাংবাদিক শরিফুল হক মনজু জানান, ওজনপার্ক কমিউনিটিতে রক্ত ঝরা যেন দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রক্ত ঝরার সাথে সাথে প্রাণ হারান অনেকে। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৯ সালের শেষ পর্যন্ত সাত জন দুষ্কৃতিদের হাতে নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মনোয়ার হোসেন লিটন জানান, আগে রাতের বেলা সন্ত্রাসীরা নিরীহদের উপর আক্রমণ করতো। এখন দিন-দুপুরে আক্রমণ করতে দ্বিধা করে না।
কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুন নুর বলেন, আশির দশকে ওজনপার্কে ইটালিয়ান, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গদের দাপট ছিল। তখন হাতে গোনা কয়েকটি বাংলাদেশী পরিবার ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন সেটা পাল্টে এক চেটিয়া বাংলাদেশী কমিউনিটি ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ কারণে বাঙালিদের টার্গেট করে কৃষ্ণাঙ্গরা হামলা ও ছিনতাই করছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্বিগ্ন ওজনপার্কের বাসিন্দারা সেখানে প্রতিবাদ সভা করে পুলিশকে আরো সতর্ক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। একই সাথে বাঙালিদের সতর্ক হয়ে চলাফেরার তাগিদ দেন। সভায় বাঙালি ছাড়াও অনেক শেতাঙ্গ অধিবাসী যোগ দেন।