নগরীতে বেপরোয়া ট্রাক

7

স্টাফ রিপোর্টার
ট্রাক চালকরা নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর কারণে অকালে প্রাণ ঝরছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের। গত ১২ ফেব্রæয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার ঘটনা। তখনও ঘুম ভাঙেনি নগরবাসীর। রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা। এই ফাঁকা রাস্তায়ই নগরীর সুরমা মার্কেট এলাকায় একটি বেপরোয়া ট্রাক ধাক্কা দেয় একটি রিকশাকে। ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম (২৯)। ঘটনাস্থলে মারা যান সকালে। সাতসকালে নগরীর সড়কে পড়ে থাকে রফিকুলের রক্তাক্ত লাশ। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে এমন ঘটনা ঘটছে অহরহই। হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে ট্রাক চালকরা। নগরীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। গত দুই মাসে সিলেট নগরীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। যার সর্বশেষ শিকার হন রফিকুল ইসলাম নামের রিকশাচালক। এমনিতে নগরীতে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ। যানজট এড়ানো ও সড়কের ক্ষতি রোধে নগরীতে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সিটি করপোরেশন। নগরীর বাইরের বাইপাস সড়ক দিয়ে ট্রাক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগও। তবে এসব নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই নগরীতে চলাচল করছে ট্রাক। তবে আগে নগরীতে ট্রাক চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা। জানা গেছে, গত দুই মাসে সিলেট নগরীতে ট্রাকের চাপায় অন্তত ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুবিদবাজারস্থ রিফাত এন্ড কোম্পানির সামনে দ্রæতগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় তানিয়া বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হন। এর কিছু সময় পর তিনি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তানিয়া নগরীর চৌকিদেখি এলাকার ৪৩/১ নুরজাহান ভিলার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। ২১ জানুয়ারি নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় ইমতিয়াজ মাহবুব মির্জা (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়। ওইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওইদিন জিন্দাবাজারে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে ইমতিয়াজ ও তার বন্ধু শহরতলীর বালুচর কনের বাড়িতে যান। সেখান থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফেরার পথে চৌহাট্টা পয়েন্টে আসামাত্র জিন্দাবাজার থেকে আম্বরখানার দিকে আসা দ্রæতগামী একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তায় ছিটকে পড়ে ইমতিয়াজের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর আম্বরখানায় বেপরোয়া ট্রাক চাপায় ২ ছাত্রলীগ নেতা গুরুতর আহত হন। একইভাবে ৩০ আগস্ট রাত ১১টার দিকে নগরের নাইওরপুল পয়েন্টে ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান মোহন নামে এক তরুণ। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ সড়কে নগরীর আম্বরখানায় পাথরবাহী ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক শাহ আলম (২১) ও খায়রুল ইসলাম (২৪) নামে এক যাত্রী নিহত হন। ২০১৯ সালের বছরের ২২ মার্চ আম্বরখানা পয়েন্টে একটি ট্রাক কেড়ে নেয় দেবাশীষ দে পিনাকের জীবন। তিনি ছিলেন মিরাবাজার বলরাম আখড়া এলাকার বাসিন্দা এবং আম্বরখানা সিলসিলার ম্যানেজার। ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শাহী ঈদগাহ থেকে কাজিটুলা হয়ে নগরীর মাছিমপুরস্থ বাসায় ফিরছিলেন মোটর সাইকেলযোগে। কাজিটুলা মসজিদের পাশে আসামাত্র বেপরোয়া একটি পাথরবোঝাই ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। তারপর তার জীবন থমকে দাঁড়ায়। তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, নগরীতে ট্রাক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও রাতে পণ্যবোঝাই ট্রাক নগরীতে ঢুকে পড়ে। মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিতই নগরীতে ঢুকে পড়া ট্রাকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। মামলা-জরিমানাও করছে।
নগরীতে বেপরোয়া ট্রাক
স্টাফ রিপোর্টার
ট্রাক চালকরা নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর কারণে অকালে প্রাণ ঝরছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের। গত ১২ ফেব্রæয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার ঘটনা। তখনও ঘুম ভাঙেনি নগরবাসীর। রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা। এই ফাঁকা রাস্তায়ই নগরীর সুরমা মার্কেট এলাকায় একটি বেপরোয়া ট্রাক ধাক্কা দেয় একটি রিকশাকে। ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম (২৯)। ঘটনাস্থলে মারা যান সকালে। সাতসকালে নগরীর সড়কে পড়ে থাকে রফিকুলের রক্তাক্ত লাশ। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে এমন ঘটনা ঘটছে অহরহই। হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে ট্রাক চালকরা। নগরীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। গত দুই মাসে সিলেট নগরীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। যার সর্বশেষ শিকার হন রফিকুল ইসলাম নামের রিকশাচালক। এমনিতে নগরীতে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ। যানজট এড়ানো ও সড়কের ক্ষতি রোধে নগরীতে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সিটি করপোরেশন। নগরীর বাইরের বাইপাস সড়ক দিয়ে ট্রাক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগও। তবে এসব নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই নগরীতে চলাচল করছে ট্রাক। তবে আগে নগরীতে ট্রাক চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা। জানা গেছে, গত দুই মাসে সিলেট নগরীতে ট্রাকের চাপায় অন্তত ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুবিদবাজারস্থ রিফাত এন্ড কোম্পানির সামনে দ্রæতগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় তানিয়া বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হন। এর কিছু সময় পর তিনি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তানিয়া নগরীর চৌকিদেখি এলাকার ৪৩/১ নুরজাহান ভিলার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। ২১ জানুয়ারি নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় ইমতিয়াজ মাহবুব মির্জা (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়। ওইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওইদিন জিন্দাবাজারে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে ইমতিয়াজ ও তার বন্ধু শহরতলীর বালুচর কনের বাড়িতে যান। সেখান থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফেরার পথে চৌহাট্টা পয়েন্টে আসামাত্র জিন্দাবাজার থেকে আম্বরখানার দিকে আসা দ্রæতগামী একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তায় ছিটকে পড়ে ইমতিয়াজের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর আম্বরখানায় বেপরোয়া ট্রাক চাপায় ২ ছাত্রলীগ নেতা গুরুতর আহত হন। একইভাবে ৩০ আগস্ট রাত ১১টার দিকে নগরের নাইওরপুল পয়েন্টে ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান মোহন নামে এক তরুণ। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ সড়কে নগরীর আম্বরখানায় পাথরবাহী ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক শাহ আলম (২১) ও খায়রুল ইসলাম (২৪) নামে এক যাত্রী নিহত হন। ২০১৯ সালের বছরের ২২ মার্চ আম্বরখানা পয়েন্টে একটি ট্রাক কেড়ে নেয় দেবাশীষ দে পিনাকের জীবন। তিনি ছিলেন মিরাবাজার বলরাম আখড়া এলাকার বাসিন্দা এবং আম্বরখানা সিলসিলার ম্যানেজার। ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শাহী ঈদগাহ থেকে কাজিটুলা হয়ে নগরীর মাছিমপুরস্থ বাসায় ফিরছিলেন মোটর সাইকেলযোগে। কাজিটুলা মসজিদের পাশে আসামাত্র বেপরোয়া একটি পাথরবোঝাই ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। তারপর তার জীবন থমকে দাঁড়ায়। তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, নগরীতে ট্রাক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও রাতে পণ্যবোঝাই ট্রাক নগরীতে ঢুকে পড়ে। মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিতই নগরীতে ঢুকে পড়া ট্রাকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। মামলা-জরিমানাও করছে।