গ্রামীণফোনকে আরও ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ

2

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনেকে (বিটিআরসি) পাওনা বাবদ আরও এক হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে তিন মাসের সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম ও আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
এর আগে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রোববার (২৩ ফেব্রæয়ারি) টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) বকেয়া রাজস্বের এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করে গ্রামীণফোন। গত রোববার দুপুরে বিটিআরসি মিলনায়তনে কমিশনের চেয়ারম্যান জহুরুল হকের হাতে এক হাজার কোটি টাকার পে-অর্ডার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় গ্রামীণফোনের পরিচালক ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাতের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির চার সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।
গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রæয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক আদেশে ২৪ ফেব্রæয়ারির মধ্যে বিটিআরসিকে এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২০১৯ সালের নভেম্বরে গ্রামীণফোনকে আপাতত দুই হাজার কোটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তিন মাসের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। সে হিসেবে ২৩ ফেব্রæয়ারি এই টাকা জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা জমা দেওয়া না হলে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির দাবি করা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপর হাইকোর্টের জারি করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলেও তখন সতর্ক করে দিয়েছিলেন আদালত।
পরে উচ্চ আদালতের দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশনার বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন রিভিউ আবেদন করে। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। তার আগের দিন গত বুধবার অডিট আপত্তির দাবির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে বিটিআরসিতে ১০০ কোটি টাকা জমা দিতে গিয়েছিল গ্রামীণফোন। তবে তা ফিরিয়ে দেয় বিটিআরসি।
প্রসঙ্গত, অডিট আপত্তির ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বকেয়া রাজস্ব দাবি করে আসছে বিটিআরসি। এর মধ্যে বিটিআরসির নিজস্ব পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাওনা ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা।
এই অর্থ আদায়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। চিঠি দিয়ে বকেয়া অর্থ দাবির পর তা পরিশোধ না করায় ২০১৯ সালের এপ্রিলে গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবি আজিয়াটার (রবি) ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপারেটর দুটিকে কোনো এনওসি (নতুন সেবা প্রদান) করার সিদ্ধান্তও আসে। তৃতীয় ধাপ হিসেবে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না— সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বিটিআরসি। সর্বশেষ ধাপ হিসেবে গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক বসানোর ইঙ্গিত দেয় নিয়ন্ত্রণ কমিশন। সেইসঙ্গে চলতে থাকে দেন-দরবার। গেল বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে মোবাইল ফোন অপারেটগুলোর এক বৈঠকে সরকার নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে সরে আসার কথাও জানায়। একই সঙ্গে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াও চলতে থাকে।