মাধবপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ২০

7

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে বেওয়ারিশ একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সারারাত জেগে কুকুরটিকে খোঁজে বের করে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এর পর গ্রামবাসীর মধ্যে স্বস্থি দেখা দিয়েছে।
গ্রামবাসীর সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর থেকে একটি বেওয়ারিশ কুকুর দৌঁড়াদৌড়ি করতে দেখা যায় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। বাঘাসুরা চকবাজার ও সড়ক বাজার এবং পুরাইকলা এলাকায় নারী পুরুষসহ অনেকেই পাগলা কুকুরের কবলে পড়ে। দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে বাজার ও স্কুলে যাওয়ার পথে শিশুসহ বৃদ্ধরা কুকুর কামড়িয়েছে।
কয়েকঘন্টার মধ্যেই গ্রামের গফুর আলীর ছেলে ইদ্রিছ (৫৫), আয়াত আলীর ছেলে তাকবির (১৪), চাঁন মিয়ার মেয়ে বিংরাজ বেগম, ওসতার এর ছেলে (৭), হুমায়নের ছেলে (৯) সহ কমপক্ষে ২০ জনকে কামড়িয়ে আহত করে। আহতরা হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে।
কুকুরের কামড়ে আহত রফু চৌধুরীর ছেলে সারুয়ার আলম (২৮) জানায়, বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজে যাওয়ার সময় কিংবা বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার সময় কুকুরের কামড়ে আহত হন। এর মধ্য একজন সি.এন.জি ড্রাইভার ও কুকুরের কামড়ে আহত হন এবং অনেকের পরিচয় এখন জানা যায়নি। পাগলা কুকুরের কামড়ের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের মানুষ সারারাত খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে কুকুরটিকে খোঁজে বের করে পিটিয়ে হত্যা করেছে। কুকুরটি হত্যার খবরে বাঘাসুরা গ্রাম সহ আশপাশের গ্রামবাসীর মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এএইচএম এশতিয়াক মামুন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বছর খানেক আগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মার্ক ডগ ভ্যাকসিনেশন দেওয়া হয়েছে। যে সকল কুকুর এর আওতায় ছিল মার্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কুকুরটি যদি এ ভ্যাকসিন এর আওতায় এসে থাকে তাহলে কুকুরের কামড়ে আক্রান্তদের কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। এরপরও ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন। তবে এ ভ্যাকসিন মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। তা জেলা সদর হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করতে হবে।