সুনামগঞ্জে কর্মবিরতিতে দুই শতাধিক সরকারি কর্মচারী

7

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
পদবি ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে সুনামগঞ্জের প্রায় ২শতাধিক মাঠ প্রশাসনে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির সরকারী কর্মচারী পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে রয়েছেন। বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ব্যানারে এ কর্মসূচি করছেন তারা। কর্মবিরতি পালনকালে সুনামগঞ্জ আদালত ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থান করেন কর্মচারীরা।
গতকাল মঙ্গলবার এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে থেকে তিন দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন তারা। যার ফলে গতকাল মঙ্গলবার থেকে তিনদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোন ধরনের কাজে অংশ নিচ্ছেন না সহকারী কর্মচারীরা। ফলে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা মাঠ প্রশাসনে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী ও ভূমি কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির (১৩-১৬ গ্রেড) ২ শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। সারা দেশে যার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে প্রতিটি শাখায় কাজ করছেন পাঁচ থেকে আটজন অফিস সহকারী। কিন্তু প্রতি শাখায় উচ্চমান সহকারীর পদ আছে মাত্র একটি। ফলে মাঠ প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মচারী অফিস সহকারী থেকে পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন না। অফিস সহকারী হিসেবেই চাকরি জীবন শেষ করতে হচ্ছে তাদের। পদোন্নতির কোন ব্যবস্থা পদক্ষেপ নেয়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
কর্মবিরতি পালনকালে কর্মচারীরা জানান, পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে কাজ করছেন মাঠ প্রশাসনের এমন হাজার হাজার কর্মচারী। এই কষ্ট নিয়ে অবসরে যাচ্ছেন এবং মৃত্যুবরণ করছেন অনেকে। এই বৈষম্যের অবসান চেয়ে দুই দশক ধরে নানাভাবে আন্দ্রোলন করছেন তারা। পদবি ও গ্রেড পরিবর্তনের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন একাধিকবার। নীতিনির্ধারকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বহু বছর ধরে।
তারা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদোন্নতির নির্দেশনা দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করেনি। তাছাড়া একই দাবিতে কর্মচারীরা গত জানুয়ারি ও ফেব্রæয়ারিতে পর্যন্ত আন্দোলন করেছেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে টানা কর্মবিরতি, অফিস চত্বরে অবস্থান ও সভা-সমাবেশ করেছেন নিজ নিজ কার্যালয়ে। দিনে দু’-তিন-চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। সর্বশেষ ২৪ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে দাবি না মানায় ফের আন্দোলনে তারা।
জানা যায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনদিন পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোন ধরনের অফিসিয়াল কাজে অংশ নেবেন না তারা। এ সময় কর্মচারীরা জেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান করে সভা সমাবেশ করবেন। আগামি ২৭ মার্চের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২৮ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহা সমাবেশের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বাকাসসের নেতারা।
বাকাসস’র সুনামগঞ্জ শাখার সভাপতি মো. আতাউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেয়ার পরও দাবি না মানা রহস্যজনক। অফিস সহকারী হিসেবেই আমাদের মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। সমাজে আমরা হেয় হচ্ছি। মান মর্যাদা বলতে কিছুই থাকছে না।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮৭ সালে অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করে বর্তমানে ৩৪ বছরের অধিক সময় একই পদে কর্মরত আছি। আমাদের সাথে অনেকেই একই পদে থেকে অবসরে গিয়েছে এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনিভাবে অনেক কর্মচারী সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটের অধীনে দীর্ঘ ৩৪-৩৫ বছর চাকরী করেও কোন পদোন্নতি পাননি। চাকরী জীবনের শেষ দিকে কেউ কেউ উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী, সিএ কাম ইউডিএ অফিস সুপার পদে পদোন্নতি পেলেও বেতন গ্রেডের কোন পরিবর্তন হয় না।
বাকাসস’র সুনামগঞ্জ এর সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, যে পদে চাকরিতে ঢুকছে, সে পদ নিয়েই অবসরে যেতে হচ্ছে। এর চাইতে লজ্জার আর কি থাকতে পারে। কেরানি হয়েই মরতে হচ্ছে। সব বিভাগের কর্মচারীদের পদোন্নতি হয়, আমাদের হয় না। এক দেশে কি দুই আইন থাকতে পারে? তাই গত সোমবার প্রতিটি অফিসে গিয়ে গণসংযোগ করেছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।
সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোন ধরনের কাজই হবে না। সকল কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করবেন।