শিমুল বাগানে পর্যটক বাড়লেও রয়েছে দুর্ভোগ

31

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
বসন্তের বাতাসে দোল খাওয়া রক্ত মাখা শিমুল ফুল দেখতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে পর্যটকরা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত শিমুল বাগানে আসেন। তবে এখানে আসার পথে ও এখানে এসে পৌঁছানোর পর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে শিমুল বাগানে আসতে গিয়ে পর্যটক, দর্শনার্থী আর তাদের বহনকারী যানবাহনকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও বাগানে ভালো খাবার, ভালো থাকার ব্যবস্থা, এমনকি বাগানের ভিতরে বসার স্থান ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে হচ্ছে শিশু-নারীসহ বয়স্ক পর্যটকদের।
সিলেট থেকে বেড়াতে আসা সাজিদুর রহমান সাজু আক্ষেপ নিয়ে বলেন, পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। যাতায়াতের জন্য নেই ভাল কোন পরিবহন ও সড়ক পথের ব্যবস্থা। দীর্ঘ দিন ধরেই এখানকার সড়কগুলো রয়েছে ভাঙ্গাচুরা অবস্থায়। ফলে চরম দূর্ভোগে শিকার হতে হচ্ছে আমাদের মত আগত পর্যটক, দর্শনার্থী, প্রকৃতি প্রেমীসহ এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণকে। এতে করে আবারও এখানে আসতে পর্যটকদের ভাবিয়ে তুলছে।
তবে এখানে এসে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়ে সব কষ্ট ভুলে যাওয়া যায়। এক পাশে যাদুকাটা নদী, বারেকটিলা ছায়া সুনিবিড় প্রান্তর অন্য পাশে বিশাল বাঁশ বাগান এক অন্যরকম অনুভূতি এমনি ভালোলাগার পাশাপাশি কষ্টের কথাও জানান, এশিয়ার বৃহত্তর শিমুল বাগানে বেড়াতে আসা মাসুদ, লাদেন, শফিকসহ অনেকেই।
তারা আরও জানায়, পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকায় ব্যস্ত জীবনের প্রশান্তির ছোঁয়া লাগলেও সড়ক পথের এত খারাপ অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। সবার অসুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এই এলাকা ও বাগানটি টাংগুয়ার হাওরসহ অন্যান্য পর্যটন এলাকার মত আকর্ষণীয় হবে।
জানা যায়, শিমুল বাগানে যেতে সরাসরি সড়ক পথের ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটক ও দর্শনার্থীরা সুনামগঞ্জ জেলা সদরের আব্দুর জহুর ব্রিজ থেকে লাউড়েরগড় বাজারে সিএনজি, লাইটেসে অনেকেই ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল দিয়ে আসে। এরপর যাদুকাটা নদী কিছু অংশ নৌকা ও বালির ছোট পথ পায়ে হেটে শিমুল বাগানে। আবার কেউ আব্দুর জহুর ব্রিজ থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দিয়ে মিয়ারচর নদী ঘাট। এরপর নদী পাড়ি দিয়ে বাদাঘাট ইউনিয়নে টমটম মটর বা সাইকেল আর তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে বাদাঘাট ইউনিয়নে হয়ে শিমুল বাগানে সিএনজি, লাইটেসে, মোটরসাইকেল, টমটমে যাতায়াত করছে সবাই। এই সব সড়ক পথ গুলোর অবস্থা খুবেই খারাপ।
আলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এই শিমুল বাগানে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আসে। যাতায়াতের করার সড়কগুলো বেশীর ভাগ স্থানে স্থানে ভাঙ্গন, সড়কের মাঝেই গর্ত রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে কাদা যুক্ত হয়ে পড়ে সড়ক।
বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাকাব উদ্দিন জানান, এই বাগানটিকে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছি আমরা পারিবারিক ভাবে। এখানে আসতে গেলে সড়কের দুরবস্থার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছে সবাই। সরকারী ভাবে যদি আগত পর্যটকদের সুবিধার্থে সড়ক পথের উন্নয়ন করত তাহলে এখানে পর্যটকদের আগমন আরও বেড়ে যাবে। সড়ক পথের উন্নয়নের জন্য আমি দাবি জানাচ্ছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যনার্জি জানান, জয়নাল আবেদিন শিমুল বাগান, টাংগুয়ার হাওর ,শহীদ সিরাজ লেক, যাদুকাটা নদী, বারেকটিলাশ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে চলাচলের সড়কগুলোসহ সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, শিমুল বাগানটি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর সংলগ্ন মানিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। বাণিজ্যিক চিন্তা ধারা, শিমুল তুলার উৎপাদন, বসন্তের শিমুল বাগানে রক্ত শিমুল ফুটার অপরূপ দৃশ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দ্রর্য্য মনের মণিকোঠায় স্থান দখল করবে। সেই ধারনা থেকেই বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন যাদুকাটা নদী সংলগ্ন ১০০ বিঘা জমিতে ২০০২ সালে সাড়ে ৩ হাজারের বেশী শিমুলের চারা রোপণ করেন।