যুক্তরাষ্ট্র মিশিগানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে ব্যাতিক্রমি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

82

কামরুজ্জামান (হেলাল) যুক্তরাষ্ট্র:

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাব গাম্ভীর্যে মিশিগান বেঙ্গলস ক্লাব অনুষ্ঠান ‘পিঠা পুলিতে একুশ’ নামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উৎযাপন করে। প্রবাস জীবনেও দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া এনে দিতে মিশিগানে উইক্সম শহরের কমিউনিটি সেন্টারে ভাষা দিবসের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বাংলাদেশি পিঠা উৎসব। শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি বিকাল পাঁচটায় প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসি বাংলাদেশি আমেরিকানদের অংশগ্রহণে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও পিঠা উৎসব। স্থানীয় শিল্পীদের উপস্থাপনায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের, অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও  মিশিগান বেঙ্গলসের পরামর্শক আবেদুর রাসুল মিন্টু এবং যুগ্ন আহ্বায়ক শারমিন হেলাল আগত আতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষনা করেন। সাংস্কৃতিক  পর্বের  প্রথমেই ভাষা সংগ্রামের  উপর অন্যবদ্য এক পরিবেশনা ছিল প্রবাসে বেড়ে উঠা শিশু কিশোরদের।

এতে মোহাম্মদ আলি জিনাহ এর চরিত্রে ছিল ফাইয়াজ ভুঁইয়া, ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়’ এর নৃত্যে ছিল ছোট্ট বন্ধু আলিশবা, আলিশা, তাজরী, শায়রিন ও মঞ্জুরী। ভাষার দাবীতে মিছিলের অংশে ছিল আয়ান, শারার, আরিজ, আরিয়ান, রিয়ান, ইহান, আতিফ এবং ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের মাধ্যমে এ পর্বের শেষ হয়। এ গানে অংশ নেন এলিশা, শ্রেয়া, রায়া, রিদিতা, ফারিজা, জারা ও ফারিয়া, এ পর্বের সমন্বয়ে ছিলেন রিশাদ ফারিহা। রক্ত লাল রক্ত লান গান সমবেত কন্ঠে পরিবেশন করেন আবেদুর রাসুল, ফরিদ চৌধুরী, জাফরী আল ক্বাদরী, মোহাম্মদ মামুন, ফজলে আহাদ, মারুফ মনোয়ার,নাজমুল আনোয়ার, ও ইফাজ করিম। উৎসবে প্রবাসে বেড়ে উঠা বাংলাদেশি কিশোরীদের অংশগ্রহণে দেশের গান ‘সুন্দর সুবর্ণ’ এর সাথে নাচ করে আলিশবা, আলিশা, তাজরী, শায়রিন ও মঞ্জুরী, আতিফ আরিয়ান, রিয়ান, ও ইহান বড়দের নাচে ছিলেন এমি ইসলাম, সুমাইয়া করিম শাম্মা, শারমিন তানিম ও সানজিদা বন্যা। দেবাশিষ মৃধা ও চিনু মৃধা আগতদের উদ্যেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। সেরা পিঠার জন্য  ৫ জন, সেচ্ছাসেবার জন্য ৫ জন, লটারীর মাধ্যমে ৫ জন ও দুই জনকে সাংস্কৃতিক অনশগ্রহনের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। পুরষ্কার তুলে দেন ছিনু মৃধা। সেরা পিঠার জন্য পুরষ্কার পান শান্তা খন্দকার, নীপা ভূঁইয়া, ফারজানা ফেরদৌস।

সেচ্ছা সেবার জন্য এমি ইসলাম, সানজিদা বন্যা, শারমিন তানিম, রিসাদ ফারিহা ও কাওশিক আহমেদ কে পুরস্কৃত করা হয়। ‘একটা গান লিখ আমার জন্য’ পরিবেশনায় ছিল জারা আনোয়ার, একতারা তোর দেশের কথা’ গানে মা মেয়ে আমিতা মৃধা ও ছিনু মৃধা, ‘অলির কথা শুনে’ পরিবেশন করেন নাজমুল আনোয়ার ও আইরিন সুলতানা এ্যানি দম্পতি, রিশাদ ফারিয়া শুনান আধুনিক গান ‘একটা ছেলে’ ‘আগে যদি জানতাম’ – গেয়ে শুনান ফজলে আহাদ, অরে নীল দরিয়া ও তারায় তারায় রটিয়ে দেব পরিবেশন করেন শাফকাত রহমান আবীর, তোমার ঘরে বসত করে ও কৃষ্ণ পখ গানে করেন ত্রিনা বড়ুয়া, দেশের গান ‘সুন্দর সুবর্ণ’ পরিবেশন করেন শিমুল ইউসুফ ও ‘সালাম সালাম’ – জাফরী আল ক্বাদরী, এছাড়া শাকিল খন্দকার ও নিলুফা আক্তার নিতু বেশ কিশু জনপ্রিয় গান গেয়ে শুনান। ‘একবার যেতে দে মা’ গিটারে শুনান মিথুন ‘পৃথিবীর সব চেয়ে মর্মঘাতী রক্তপাত’ কবিতা আবৃতি করেন পপি দাস ও নুরুলদিনের সারা জীবনের একাংশ পড়ে শোনান সাইফ সিদ্দিকী। আগত সকল অতিথিদের পিঠাসহ অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদের জ্ঞাপন করেন ফাইসাল সাইদ ও আবেদুর রাসুল মিন্টু। একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা শুধু বাঙালি সংস্কৃতিরই নয়; বরং বিশ্বের বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার এক অবিনাশী চেতনা। প্রবাসে বেড়ে উঠা প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশিদের অহংকার বাংলা ভাষা ও তার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিকে জানানোর আয়োজনের জন্য সকলে আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।