তাহিরপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন, প্রেমিক উধাও

5

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পল্লিতে বিয়ের দাবি নিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের এক তরুণী গত ৪ দিন ধরে প্রেমিক মুক্তার মিয়া আকাশের বাড়িতে অনশন করছে। মুক্তার মিয়া উপজেলার শ্রীপুর (উ.) ইউনিয়নের তেলীগাঁও গ্রামের ঠাকুর হাটির উসমান মিয়ার ছেলে। তবে বিষয়টি জানার পর থেকেই মুক্তার মিয়া বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
অনশনে বসা তরুণী জানান, প্রায় ২ বছর আগে মুক্তার মিয়া (আকাশের) প্রথমে পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে পরিচয় থেকে একে অপরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর মধ্যে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিক মুক্তার মিয়া তার সঙ্গে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়। গত ১৯ ফেব্রæয়ারি হযরত শাহ ক্বারী নুরালী শাহ (র) ওরশের রাতে প্রেমিক মুক্তার মিয়া আমার ঘরে প্রবেশ করে। এসময় আমার মা-বাবা মুক্তারকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে মুক্তার মিয়া বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে চলে আসেন।
তবে এ ঘটনার পরা থেকেই মুক্তার মিয়া আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আমি কোন উপায়ান্তর না পেয়ে বিয়ের দাবি নিয়ে গত সোমবার থেকে মুক্তার মিয়া বাড়িতে অনশন শুরু করি। অনশনের তিনদিন পরও তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিয়ে মুক্তার মিয়ার পরিবারের লোকজন আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন।
তরুণীর মা জানান, আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খায়। গত সোমবার সকালে কাজের সন্ধানে আমরা বাহিরে চলে যাই। বিকেলে বাড়িতে এসে মেয়ে ঘরে নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মেয়ে মুক্তার মিয়ার বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়া অবস্থান করছে। তিনি আরো বলেন, তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমার মেয়েটা স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিয়ে মারপিট ও নির্যাতন করছে।
ভিকটিমের বাবা বলেন, মুক্তারের বড় ভাই এরশাদ সর্দার বারবার পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, ইজ্জতের মূল্য তো আর টাকা পূরণ হয় না।
প্রেমিক মুক্তার মিয়ার বড় ভাই এরশাদ সর্দার জানান, এক তরুণী গত সোমবার থেকে তাদের বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে অবস্থান করছে। তার ভাই মুক্তার তরুণী বাড়িতে আসার পূর্ব থেকেই বাড়িতে নেই। একটি প্রতিপক্ষ তাদেরকে সামাজিকভাবে হয়রানি ও ফাঁসানোর জন্য এমনটি করছে বলে তিনি দাবি করেন।
শ্রীপুর(উ.) ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আমিন জানান, গত সোমবার থেকে এক তরুণী মুক্তারের বাবা উসমান মিয়ার বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে অবস্থান করছে। ঘটনাটি উভয় পক্ষকে সামাজিক ভাবে শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, ঘটনা শুনে তাহিরপুর থানার এস আই জহুর লালকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের পরিবার থেকে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।