মিশিগান রাজ্যের নাগরিকদের কে ‘ঘরে থাকার’ নির্দেশনা জারি

57

কামরুজ্জামান হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র:

যুক্তরাষ্ট্র মিশিগানের গভর্ণর আজ মিশিগান রাজ্যের নাগরিকদের কে ‘ঘরে থাকার’ নির্দেশনা জারি করলেন মিশিগান রাজ্যের বাসিন্দাদের ‘ঘরে থাকার’ নির্দেশনা জারি করেছেন গভর্ণর গ্রেচেন হুইটমার। আজ সোমবার তিনি ‘বাড়িতে থাকুন, নিরাপদে থাকুন’ স্লোগানে এ নির্দেশনা জারি করেন। মঙ্গলবার ১২ টা এক মিনিট থেকে এই  নির্দেশ কার্যকর হবে। নোভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গভর্ণর। স্কুলও ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবে কেবল পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজ  এবং মুদি ও ঔষধের কেনাবেচার জন্য। এই নির্দেশনা এমন সময় আসলো যখন এক লাফে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ বেড়ে ১৩২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. জোনেইগ খালদুন এই তথ্য জানিয়েছেন। মিশিগানের গভর্ণর আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য খুবই সাধারণ ‘বাড়িতে থাকুন, নিরাপদ থাকুন, জীবন বাঁচান।’ এটা সাময়িক এই হস্তক্ষেপ করছি এজন্য যে আমরা হাসপাতালে সক্ষমতা বাড়াতে সময় পাবো। আমরা পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসার ঔষধ আরো উন্নত করতে পারি। এর ফলে হাসপাতালে ভর্তির হার কমবে এবং মৃত্যুর হারও হ্রাস পাবে। গভর্ণর জানান, এটা লক্ষ্য করা গেছে যে, যদি আমেরিকানরা ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকেন, একে অপরের থেকে ছয় ফুট দূরত্বে থাকেন তাহলে এই মহামারী সহজেই দমন করা সম্ভব। এটা কেবল আমাদের ওপরই নির্ভর করে। হুইটমার বলেন, বাড়িতে না থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি এই ধারণা দেয় যে, রাজ্যের এক কোটি জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ আক্রান্ত হতে পারে। হুইটমার বলেন, পেছনের দিকে তাকালে দেখা যাবে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নিয়েছি ফেডারেল যে সহায়তা রাজ্যে এসেছে তা খুবই অপর্যাপ্ত এবং হতাশাজনক। একটা হাসপাতালে হয়তো একটা শিফটের কাজ চালানো যাবে এই সহায়তা দিয়ে। লক ডাউন ১৩ এপ্রিলের পর বাড়ানো হবে কিনা সেটি নির্ভর করছে আক্রান্তের সংখ্যা, পরীক্ষার পরিমাণ, হাসপাতালের সক্ষমতা এবং আইসোলেশনের ওপর। হুইটমার জানান, মুদি দোকান, রেস্তোরা, ফার্মাসী এবং গ্যাস স্টেশন খোলা থাকবে।

তিনি বলেন, আতঙ্কিত হবেন না। তিনি জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা না রাখলে জরিমানাসহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। গভর্ণর প্রয়োজনীয় কোনটি সেটি নির্ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আইন কেউ ভঙ্গ করার চেষ্টা করবেন না। স্পর্শকাতর অবকাঠামোর শ্রমিকদের কাজের অনুমতি দেওয়া হবে। যেমন, স্বাস্থ্য বিষয়ক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জননিরাপত্তা, খাবার, কৃষি, জ্বালানি, পানি, ময়লা পানি, পরিবহন, যোগাযোগ, কমিউনিটি ভিত্তিক সরকারি অবকাঠামো, মারাত্মক সব পদার্থ, আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান, রাসায়নিক সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষ শিল্প ঘাটির জিনিসপত্র আনা-নেওয়া নিষেধাজ্ঞার বাইরে। এছাড়া শিশুদের যত্ন, ইন্সুরেন্স শিল্পের কর্মী এবং স্পর্শকাতার শ্রমিক ইউনিয়নের কাজে জড়িতরাও আওতার বাইরে থাকবে।